" সুন্দরী বান্ধবী চাই ? সাথে মনের মত ট্যুর প্যাকেজ । আমি একজন কলগার্ল। এই নম্বরে যোগাযোগ করুন"।
পাশে একটা ফোন নম্বর দিয়ে ব্র্যাকেটে একটি নাম লেখা "গীতা"
রমেন দা বলতে শুরু করলো। তখনও বিয়ে থা করিনি। টুকটাক এখানে ওখানে খেপ খেলে বেড়াচ্ছি। মেয়ে দেখলেই নোলা টা সকসক করে।
কাজ বলতে তখন একটা ওয়াটার ফিল্টার কোম্পানি তে চাকরী করি, কলকাতাতেই। একটু আগে বেরোতে হত। গেদে ধরতাম। আমার সাথে কল্যানীর একটা ছেলের বন্ধুত্ব হল, সুব্রত, সুব্রত মুখার্জী। সেও আমার মতোই একটা প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি করে। তবে আমার থেকে এক কাঠি সরেস। কোথা থেকে একটা ফলস প্রেস কার্ড ও বানিয়েছিল। আমরা এক ট্রেন ই ধরতাম। সেদিন এমনই ট্রেন লেট , তো কৃষ্ণনগর ধরলাম। বুঝলি এরকম ই সেদিন দেখলাম , কম্পার্ট মেন্টে দেয়ালে মার্কার দিয়ে লেখা -- "আমার নাম সুনীতা, শারীরিক সম্পর্ক করতে আগ্রহী যুবকরা ফোন করুন"। পাশে একটা ফোন নম্বর দেওয়া, ল্যান্ড ফোন। এদিকের ই হবে। আমার মাথায় বদবুদ্ধি ভীড় করলো, মালটাকে ফোন করে দেখলে হয়, একটু হ্যাজানোও যাবে।
ভাবলাম ফোন করা যাক কিন্তু মনে একটা স্বাভাবিক সংকোচ বোধ কাজ করছে। কি দরকার? কি লাভ? যদি ভুল ভাল বেপার হয়? যদি কোনো ট্র্যাপ হয়, এই সব আরকি। কিন্তু মনের মধ্যে একটা সাংঘাতিক কৌতুহল। অজানা সুনীতা নামে মেয়েটিকে দেখার একটা উদগ্র কৌতুহল কাজ করতে লাগলো। ভাবলাম একটা বুদ্ধি খাটাই। ট্রেন থেকে নেমে সুব্রত কে বললাম। ওকে বলতেই ও লুফে নিল।
সুব্রত বলল - কখন ফোন করবি?
-- অফিস থেকে ফিরে , সাড়ে সাতটা নাগাদ।
--- শালা কোনো খা--কি টাইপের মাগী হতে পারে, যদি দেখা করতে বলে।
---- দেখাই তো করতে চাই।
---- মালটা যদি মাল্লু চায়, কি করবি?
---- শোন দুজনে যাব, শ পাঁচেক টাকা কাছে রাখবো। ঝামেলা হলে সালটে নেওয়া যাবে।
----- তো ঐ কথাই থাকলো, সাড়ে সাতটায় কল্যাণী স্টেশনে দেখা হবে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সুনীতা আছে ? ও আমাকে চেনে । ওর সাথে আগামীকাল দেখা করতে বলেছিল।
--- পায়রাডাঙ্গা স্টেশনে নেমে রিকশাওলাকে বলবেন "তারা সুন্দরী" প্রাইমারি স্কুল। স্কুলের উলটা দিকের গলির চার নম্বর বাড়ী।
-- কাল কথা হবে।
ফোন কেটে দিলাম , বেশি বললেই বেশি হ্যাজাবে।
সুব্রত বলল কি রে কি বুঝলি?
তারাসুন্দরী স্কুলের সামনে নামলাম। নির্দিষ্ট বাড়িটার সামনে পৌঁছলাম। একটা পাকা একতলা বাড়ী। নাম " শান্তি ধাম"।
আমার তখন রোখ চেপে গেছে। বললাম এত ভয় খাস না। ওপরে ফিটফাট তলায় রানাঘাট। এরাও হাফ গেরস্ত, কিছু হলে তোর সাংবাদিকের কার্ড তো আছেই।
শোকেস এর উপরে একটা মেয়ের ছবি চোখে পড়লো, ফর্সা গায়ের রঙ, বছর একুশ বাইশ বয়েসের , একটা সালোয়ার কামিজ পরনে, মুখটা খুব মিষ্টি। বিকেলের রোদের মত একটু আদুরে আলো লেগে আছে মুখ খানিতে। প্লাস্টিকের ফ্রেমে আটকানো। মনটা বেশ খুশি হয়ে উঠলো। মালটা চাঙ্গা।
মহিলা বলল " সুনীতা , আমার মেয়ে, তা তোমরা ট্রেন এ ফোন নম্বর দেখে আসছো না?"
কি আর বলব, বললাম হ্যাঁ।
-- ঠিক আছে, বস, আমি একটু আসছি।
সুব্রত বলল বন্ধু ভালোই মস্তি হবে মনে হচ্ছে।
মহিলা ভেতরে গেল তা প্রায় পাঁচ মিনিট হয়ে গেল। বসে আছি। একটু অস্বস্তি ও হচ্ছে।
এমন সময় মহিলা বেরিয়ে এলেন। একটা পুরানো খবরের কাগজ আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল "এই টা পড়ুন, এই জায়গা টা" দেখলাম, প্রায় বছর খানের আগের একটি বাংলা কাগজ, পাতা হলুদ হয়ে গেছে। ভেতরের পৃষ্ঠায় একটা খবর লাল কালি দিয়ে ঘেরা। খবরটা অনেকটা এরকম ছিল বুঝলি--
" সুনীতা দাস নামে পায়রাডাঙ্গার একজন একুশ বছরের তরুণী গতকাল ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়েটি রানাঘাট কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়তো। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, মেয়েটিকে ফোন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ কু প্রস্তাব দিচ্ছিল। বিভিন্ন ট্রেনের কামরায় কে বা কারা মেয়েটির নাম ও ফোন নম্বর লিখে রেখেছিল। লিখেছিল যে মেয়েটি কলগার্ল এর কাজ করে। মেয়েটির মা জানায় যে এই ঘটনার জেরে গত কয়েকদিন ধরেই মেয়েটি তীব্র অবসাদ এ ভুগছিল। গতকাল তিনি ও তার স্বামী একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে বেরিয়ে গেল ফাঁকা বাড়ী তে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। তার সুইসাইড নোটে মেয়েটি লিখে গেছে - "মা বিশ্বাস করো আমি খারাপ মেয়ে নই"।এলাকায় তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনার পরে মেয়েটির বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।এলাকাবাসীর বক্তব্য মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেয়েটি অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত চলছে।"
শেষ দিকে ও বাড়ী থেকে বেরোত না। ফোন বাজলে চমকে চমকে উঠত। আমরা লোককে কত বলতাম, ফোন না করতে অনুরোধ করতাম। সবাই মজা করতো। বাজে বাজে গালাগালি দিত।
তারপর এই ঘটনা। ওর বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়লো। সাতদিন পরে সে মানুষ টাও চলে গেল।
এবার আমাদের রেহাই দিন, সুনীতা তো আর নেই।
আস্তে আস্তে আমি আর সুব্রত ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। তখনও বুঝলি সেই বুক ফাটা কান্না কানে বাজছে। সেদিন একটা ঘোরের মধ্যে বাড়ী ফিরেছিলাম। তারপর থেকে বুঝলি যেখানে এমন লেখা দেখি মুছে দিই।
রমেন দা দেখি ব্যাগ থেকে একটা ব্লেড বের করে লেখাটা একটু একটু করে উঠিয়ে দিতে থাকলো। শুভ বলল রমেন দা, তুমি না শালা একটা ফালতু লোক, একটা বাজে লোক, এমন করে বলো না, শালা মন খারাপ করে দাও।
দেখি ওর চোখে জল চিক চিক করছে। সুদীপ, সৌরভ ও দেখলাম ট্রেনের বাইরের দিকে তাকিয়ে, লোনা জ্লের কিছু আভাষ সেখানেও।
আমার চোখটাও এত কড়কর করছে । মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে রুমাল বের করলাম।
https://www.facebook.com/pproy76/posts/10212263820737651
















