Monday, February 6, 2017

ট্রেন এর দেয়ালে একটি নষ্ট মেয়ের ফোন নম্বর (Collected)

সকাল সাড়ে নটার শান্তিপুর লোকাল এ দাঁড়িয়ে আছি, ঠাসাঠাসি ভীড়। ট্রেন এমনিতেই লেট করে চলছে। আমরা রোজ কল্যাণী লোকালে যাই, আজ ট্রেন লেট বলে শান্তিপুর ধরলাম। আমাদের একটা গ্রূপ আছে। আমি , সুদীপ, সৌরভ, শুভ আর রমেন দা। গ্রূপ এ রমেন দা ই মধ্যমনি। কাঁচড়াপাড়া থেকে উঠে শিয়ালদা পর্যন্ত নরক গুলজার করতে করতে চলা। এ ওর পিছনে লাগা। তার সাথে রমেন দার নানা রকম গল্প তো আছেই। লোকটি বেশ। আমুদে মানুষ, বেশ মেতে আছেন সব কিছু নিয়ে। সুদীপ বলল " রমেন দা , বৌদি নাকি কাল আপনাকে লাথি মেরে খাট থেকে ফেলে দিয়েছে"। অমনি শুভ পোঁ ধরলো , " ও তাই ভাবি রমেন দা আজ একটু লেংচে হাঁটছে কেন?" ব্যাস, ইয়ার্কি শুরু হয়ে গেল। রোজকার মত।
হঠাৎ উল্টো দিকের দেয়ালে একটা লেখা চোখে পড়লো, হাতে লেখা, পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে। লেখাটা এরকম--
" সুন্দরী বান্ধবী চাই ? সাথে মনের মত ট্যুর প্যাকেজ । আমি একজন কলগার্ল। এই নম্বরে যোগাযোগ করুন"।
পাশে একটা ফোন নম্বর দিয়ে ব্র্যাকেটে একটি নাম লেখা "গীতা"
এটা নিয়েই এবার গল্প শুরু হলো। সুদীপ বলল -" শালা এবার এই সব সেমি প্রস গুলো ট্রেন এ ও ব্যবসা করা শুরু করেছে। যত্ত সব"। শুভ বলল " মাল কিন্তু পুরো খান---। কি বল রমেন দা? মালটাকে ফোন করা যাক , কি বলিস সবাই?"। রমেন দা দেখলাম লেখাটার দিকে তাকিয়ে আছে । আমি বললাম " মালটা মনে হয় রমেন দার পুরোনো চেনা, দেখছিস না কেমন থম মেরে গেছে"।
রমেন দা বলল " না রে সেসব কিছু না। তবেএকটা পুরোনো ঘটনা মনে পড়ে গেল। এই লাইনেরই। তা প্রায় বছর দশেক আগের কথা"।
রমেন দা বলতে শুরু করলো। তখনও বিয়ে থা করিনি। টুকটাক এখানে ওখানে খেপ খেলে বেড়াচ্ছি। মেয়ে দেখলেই নোলা টা সকসক করে।
কাজ বলতে তখন একটা ওয়াটার ফিল্টার কোম্পানি তে চাকরী করি, কলকাতাতেই। একটু আগে বেরোতে হত। গেদে ধরতাম। আমার সাথে কল্যানীর একটা ছেলের বন্ধুত্ব হল, সুব্রত, সুব্রত মুখার্জী। সেও আমার মতোই একটা প্রাইভেট কোম্পানির চাকরি করে। তবে আমার থেকে এক কাঠি সরেস। কোথা থেকে একটা ফলস প্রেস কার্ড ও বানিয়েছিল। আমরা এক ট্রেন ই ধরতাম। সেদিন এমনই ট্রেন লেট , তো কৃষ্ণনগর ধরলাম। বুঝলি এরকম ই সেদিন দেখলাম , কম্পার্ট মেন্টে দেয়ালে মার্কার দিয়ে লেখা -- "আমার নাম সুনীতা, শারীরিক সম্পর্ক করতে আগ্রহী যুবকরা ফোন করুন"। পাশে একটা ফোন নম্বর দেওয়া, ল্যান্ড ফোন। এদিকের ই হবে। আমার মাথায় বদবুদ্ধি ভীড় করলো, মালটাকে ফোন করে দেখলে হয়, একটু হ্যাজানোও যাবে।
ভাবলাম ফোন করা যাক কিন্তু মনে একটা স্বাভাবিক সংকোচ বোধ কাজ করছে। কি দরকার? কি লাভ? যদি ভুল ভাল বেপার হয়? যদি কোনো ট্র্যাপ হয়, এই সব আরকি। কিন্তু মনের মধ্যে একটা সাংঘাতিক কৌতুহল। অজানা সুনীতা নামে মেয়েটিকে দেখার একটা উদগ্র কৌতুহল কাজ করতে লাগলো। ভাবলাম একটা বুদ্ধি খাটাই। ট্রেন থেকে নেমে সুব্রত কে বললাম। ওকে বলতেই ও লুফে নিল।
 সুব্রত বলল - কখন ফোন করবি?
-- অফিস থেকে ফিরে , সাড়ে সাতটা নাগাদ।
--- শালা কোনো খা--কি টাইপের মাগী হতে পারে, যদি দেখা করতে বলে।
---- দেখাই তো করতে চাই।
---- মালটা যদি মাল্লু চায়, কি করবি?
---- শোন দুজনে যাব, শ পাঁচেক টাকা কাছে রাখবো। ঝামেলা হলে সালটে নেওয়া যাবে।
----- তো ঐ কথাই থাকলো, সাড়ে সাতটায় কল্যাণী স্টেশনে দেখা হবে।
সারাদিন বিভিন্ন প্ল্যান ছকলাম। আগামী কাল শনিবার। অফিস ছুটি। দেখা করতে যাওয়া যেতে পারে। মনটা একটু আনচান করে উঠলো। ব্যাপারটায় একটু সেক্সএর গন্ধ আছে। তেমন হলে মালটাকে নিয়ে নাইট শো তে একটু সিনেমা দেখা, হলের ভিতরে অন্ধকারে একটু ছোঁয়া ছুঁয়ি তো চলতে পারে।
রাত পৌনে আটটা নাগাদ সুব্রত এসে পৌঁছল। ঠিক করলাম, একজন কথা বলবো। দেখা করতে যাব। আগামীকাল। কিন্তু আসলে দুজনেই যাব। ফোন লাগালাম, একজন মহিলার গলা পেলাম, জিজ্ঞাসা করলো- "কাকে চাই"?
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সুনীতা আছে ? ও আমাকে চেনে । ওর সাথে আগামীকাল দেখা করতে বলেছিল।
মহিলা বলল " আসুন"।
--- কিন্তু আপনাদের বাড়ী তো চিনিনা, কোথায় যাব?
--- পায়রাডাঙ্গা স্টেশনে নেমে রিকশাওলাকে বলবেন "তারা সুন্দরী" প্রাইমারি স্কুল। স্কুলের উলটা দিকের গলির চার নম্বর বাড়ী।
-- কাল কথা হবে।
ফোন কেটে দিলাম , বেশি বললেই বেশি হ্যাজাবে।
সুব্রত বলল কি রে কি বুঝলি?
--- বুঝলি সুব্রত , শালা , চতুর্দিকেই এই মধুচক্রের ব্যাবসা ছেয়ে গেছে। তো ঐ কথাই রইল। আগামী কাল তিনটে নাগাদ এখানেই দুজনের দেখা হবে, তারপর অপারেশন সুনীতা।
পায়রাডাঙ্গা পৌঁছতে পৌঁছতে পাঁচটা বাজলো। রিকশা ধরে বললাম " তারা সুন্দরী স্কুল"।
এটা একটা গ্রামীণ জনপদ। সাধারণ, খেটে খাওয়া মানুষের ছোট ছোট পুতুলের সংসার। টালির চালের বাড়ি, একটু ভেরেন্ডার কি নিশিন্দের গাছের বেড়া দিয়ে ঘেরা। চালে লকলকে কুমড়ো বা লাউ গাছ। বাড়ির পাশে একটা দুটো সজনে কি কলা গাছ। মাঝে মাঝে একটা কি দুটো পাকা বাড়ী।
তারাসুন্দরী স্কুলের সামনে নামলাম। নির্দিষ্ট বাড়িটার সামনে পৌঁছলাম। একটা পাকা একতলা বাড়ী। নাম " শান্তি ধাম"।
সুব্রত বলল "রমেন দা, নামের বাহার দেখেছ, এরপর হয়তো দেখবে সোনাগাছির নাম বদলে আনন্দ ধাম হবে। তবে এটা গেরস্ত বাড়ী মনে হচ্ছে। এখনও সময় আছে কেটে পড়ি চল।
আমার তখন রোখ চেপে গেছে। বললাম এত ভয় খাস না। ওপরে ফিটফাট তলায় রানাঘাট। এরাও হাফ গেরস্ত, কিছু হলে তোর সাংবাদিকের কার্ড তো আছেই।
আস্তে করে ডাকলাম সুনীতা , সুনীতা আছো? দরজা খুলে এক বয়স্কা মহিলা উঁকি মারল, বিধবা। দরজা খুলে বলল "ভিতরে এসে বসুন ।"
ঘরটায় দুটো জানালা। দুটো বেতের চেয়ার রাখা। একপাশে একটা তক্তপোষ। জানলা দিয়ে বাগানের জুঁই গাছের একটা লতা ভেতরে মুখ বাড়িয়েছে। সাদা দেয়াল। একটা শো কেশ। তাতে কটা গল্পের কবিতার বই আর একটা গীতবিতান রাখা। তিন চারটে মেমেন্টো রাখা।কোনায় একটা তানপুরা কাপড়ে ঢেকে রাখা।
শোকেস এর উপরে একটা মেয়ের ছবি চোখে পড়লো, ফর্সা গায়ের রঙ, বছর একুশ বাইশ বয়েসের , একটা সালোয়ার কামিজ পরনে, মুখটা খুব মিষ্টি। বিকেলের রোদের মত একটু আদুরে আলো লেগে আছে মুখ খানিতে। প্লাস্টিকের ফ্রেমে আটকানো। মনটা বেশ খুশি হয়ে উঠলো। মালটা চাঙ্গা।
মহিলা বলল " সুনীতা , আমার মেয়ে, তা তোমরা ট্রেন এ ফোন নম্বর দেখে আসছো না?"
কি আর বলব, বললাম হ্যাঁ।
-- ঠিক আছে, বস, আমি একটু আসছি।
মহিলা চলে যেতে সুব্রতকে বললাম, দেখেছিস, মা মেয়ে মিলেই কারবার খুলেছে। তা মেয়েটা দেখতে কিন্তু মন্দ না , গান টান ও করে ।বেশ চাকুম চুকুম আছে।
সুব্রত বলল বন্ধু ভালোই মস্তি হবে মনে হচ্ছে।
মহিলা ভেতরে গেল তা প্রায় পাঁচ মিনিট হয়ে গেল। বসে আছি। একটু অস্বস্তি ও হচ্ছে।
এমন সময় মহিলা বেরিয়ে এলেন। একটা পুরানো খবরের কাগজ আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল "এই টা পড়ুন, এই জায়গা টা" দেখলাম, প্রায় বছর খানের আগের একটি বাংলা কাগজ, পাতা হলুদ হয়ে গেছে। ভেতরের পৃষ্ঠায় একটা খবর লাল কালি দিয়ে ঘেরা। খবরটা অনেকটা এরকম ছিল বুঝলি--
" সুনীতা দাস নামে পায়রাডাঙ্গার একজন একুশ বছরের তরুণী গতকাল ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মেয়েটি রানাঘাট কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়তো। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, মেয়েটিকে ফোন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ কু প্রস্তাব দিচ্ছিল। বিভিন্ন ট্রেনের কামরায় কে বা কারা মেয়েটির নাম ও ফোন নম্বর লিখে রেখেছিল। লিখেছিল যে মেয়েটি কলগার্ল এর কাজ করে। মেয়েটির মা জানায় যে এই ঘটনার জেরে গত কয়েকদিন ধরেই মেয়েটি তীব্র অবসাদ এ ভুগছিল। গতকাল তিনি ও তার স্বামী একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে বেরিয়ে গেল ফাঁকা বাড়ী তে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। তার সুইসাইড নোটে মেয়েটি লিখে গেছে - "মা বিশ্বাস করো আমি খারাপ মেয়ে নই"।এলাকায় তীব্র উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনার পরে মেয়েটির বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।এলাকাবাসীর বক্তব্য মধ্যবিত্ত পরিবারের এই মেয়েটি অত্যন্ত ভদ্র ও মেধাবী হিসেবেই এলাকায় পরিচিত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনার তদন্ত চলছে।"
খবরটা পড়া শেষ হলে আর চোখ তুলতে পারছিলাম না। শুনলাম মহিলা স্বগোতোক্তির মত করে বলছে, " মেয়েটাকে লোকেরা রাত দিন বিরক্ত করত, জিজ্ঞাসা করত রেট কত, আরো খারাপ খারাপ কথা। পুলিশ, প্রধান সবাইকে জানিয়ে ছিলাম। সবাই আমার মেয়েটাকেই দোষ দিল। ও এত ভাল গান করতো। রাত বিরেতে ফোন আসা শুরু হল। শেষদিকে খুব মনমরা হয়ে গেছিল। ওর দাদা বাইরে চাকরি করে । ওর জন্যেই ফোনটা নেওয়া। সুনীতা খুব সুন্দর গান করতো জানেন, কত প্রাইজ পেয়েছিল।
শেষ দিকে ও বাড়ী থেকে বেরোত না। ফোন বাজলে চমকে চমকে উঠত। আমরা লোককে কত বলতাম, ফোন না করতে অনুরোধ করতাম। সবাই মজা করতো। বাজে বাজে গালাগালি দিত।
তারপর এই ঘটনা। ওর বাবাও অসুস্থ হয়ে পড়লো। সাতদিন পরে সে মানুষ টাও চলে গেল।
এবার আমাদের রেহাই দিন, সুনীতা তো আর নেই।
মহিলা ছবিটা বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকলো। ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনে হল সুনীতা বলে মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে মনে হল। মনে হল এক অসহায় মাযের কত দিনের হাহাকার এই ঘরের মধ্যে জমা হয়ে আছে। এখানে এই বাড়িতে সেই তরুণী মেয়েটির কত গান জমা হয়ে আছে। মনে হল ওর মৃত্যুর জন্য আমিও একই ভাবে দায়ী।
আস্তে আস্তে আমি আর সুব্রত ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। তখনও বুঝলি সেই বুক ফাটা কান্না কানে বাজছে। সেদিন একটা ঘোরের মধ্যে বাড়ী ফিরেছিলাম। তারপর থেকে বুঝলি যেখানে এমন লেখা দেখি মুছে দিই।
রমেন দা দেখি ব্যাগ থেকে একটা ব্লেড বের করে লেখাটা একটু একটু করে উঠিয়ে দিতে থাকলো। শুভ বলল রমেন দা, তুমি না শালা একটা ফালতু লোক, একটা বাজে লোক, এমন করে বলো না, শালা মন খারাপ করে দাও।
দেখি ওর চোখে জল চিক চিক করছে। সুদীপ, সৌরভ ও দেখলাম ট্রেনের বাইরের দিকে তাকিয়ে, লোনা জ্লের কিছু আভাষ সেখানেও।
আমার চোখটাও এত কড়কর করছে । মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে রুমাল বের করলাম।
শেয়ার করতে পারেন, বাধা নেই।

https://www.facebook.com/pproy76/posts/10212263820737651

Tuesday, April 15, 2014

Alumni Link: Spring 2014 ▪ Vol. 01 ▪ Issue 01.

We are happy to present Alumni Link: Spring 2014 ▪ Vol. 01 ▪ Issue 01. 

সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ ১৪২১। 

Tarun Basu | 67 CE
Indranath Sinha | 82 MIN
Partha Pratim Roy | 97 CE
Debargha Sengupta | 98 ARCH
Shankha Kar Bhowmik | 97 MIN

















Thursday, February 20, 2014

ক্যাওরামি - IIEST

ক্যাওরামি

+++++++

 

কলেজ স্যোশালে একটা ক্যাওরামি হতো যেটাকে বলা হতো ক্যাও ক্যুইজ। এখনো কি ক্যাও ক্যুইজ হয়? তাহলে একটা প্রশ্ন হতে পারতো ভারতের কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যার্থীরা অহংবোধে ভোগে? ভারতে একমাত্র আমি আমি করার জায়গা কোথায়? মানে আত্মমুগ্ধতা বা নিজেই নিজের পিঠ চাপড়ানোর জায়গা।

 

উত্তর হল - আমাদের সেই বিক্কলেজ। কারন সেটা এখন আই আই ই এস টি IIESTআই আই (II) মানে আমি আমি আর (EST) কারন এটা পূর্ব ভারতে।

 

এটা নিয়ে "IIEST, Shibpur" নামে একটা আড্ডার আসরে পৃথ্বীরাজ নাগ নামের এক ছোকরা ('১৩ কম্পু) দাবী করলো "IIEST, Shibpur" না হয়ে "IIEST Shibpur" হলে অসুবিধে কোথায়? আমাদের নামের মাঝে একটা কমা কি কমানো গেল না!

 

সবাই হায় হায় করে উঠলো। ল্যামিবাবু ('৯৭ খনি) দাবী তুললেন অবিলম্বে কমাটা কমানো হোক। সন্তোষদাও ('৬৫ বাস্তু) যোগ করলেন দেখে মনে হয় যেন কোমা থেকে ফিরে এলো। কেউ বলল - কমাটা কেমন যেন কমার্শিয়াল লাগে শুনতে। আমি বেগতিক দেখে বললাম - কমা নিয়ে এই আলোচনায় কি তাহলে দাঁড়ি দেওয়া ভালো? কিন্তু দাঁড়িয়ে যাওয়া কি আর এতো সহজ?

 

ভগবানের চোখ - দেবাঞ্জন ('৯৭ বাস্তু) অনুতাপ করে বলল - 'বেসু'টা বেশী দিন টিকলো না ল্যামি। ল্যামি কারন দর্শাল - 'বেসু'টা আসলে 'বেসু'রো লাগছিল শুনতে। তাই পাল্টে ফেলা হল। এইফাঁকে আমি নাপিতের কাজ করলাম। মানে ঝট করে 'কমা'টা কামিয়ে ফেললাম। তাহাতে জনগণ আহ্লাদিত হয়ে আমাকে কমা কামানো বা কমানোর জন্যে এ যাত্রা ক্ষমা করে দিল।

 

তবে তর্ক বেঁধে গেল কমা গেল কোথায়? সন্তোষদা 'নাম নিয়ে টানাটানি' দেখে কোন সন্তোষজনক মন্তব্য না করে কেটে পড়লেন। মাঝখানে বি ই কলেজে সামন্তরাজের অন্যতম মানসদা ('৮১ বাস্তু) সরস মন্তব্য করলেন -  এ তোরা করছিস কি? এতো মনে হচ্ছে ইয়ার্ডে গিয়ে জেনারেল কামরায় সিট বুকিং-এর কেস।  শেষে আমি স্বীকার করলাম কমা আমি কমিয়েছি, মানে চাপা দিয়েছি। তাই বাঁশ বাগানের শিয়াল রাজার মতো, আমি হলাম কমা-আন্ডার - কম্যান্ডার।

 

তবু একটু বাকবিতণ্ডা হল ল্যামিবাবুর সাথে। আমি বললাম - 'কমা' আমি কামিয়েছি। ল্যামির দাবী তোর কমা কি দাঁড়ির মতো, যে কামাবি। আমি বললাম - দাঁড়ি কি গোঁফ যে আমার তোমার করছ। আর দাঁড়ি কামানো গেলে, কমা কামানো যাবে না কেন? আশঙ্কা প্রকাশ করলাম দাঁড়ি কামালে যদি আড়ি করে দাও! ল্যামি ঠোঁট বেকিয়ে কাকেশ্বর কুচকুচের মতো ব্যাঙ্গ করে বললো আমার ভারী বয়েই গেছে।

 

যাইহোক না কেন আমাদের উপলব্ধি করলাম - BEC-টা তবু বেশ (BEC) কিছুদিন চলেছিল।  BEC তো বেশ ছিলই, মাঝখানে আবার 'বেশ বেশ' হয়েছিল। বেসদু (BECDU) মানে BEC দু (২) - মানে বেশ বেশ। যেখান থেকে আমাদের বেকার (BECA-র) জীবনের শুরু।

 

বিক্কলেজ এখন IIEST হয়েছে শুনে বেশ গর্ববোধ হচ্ছে তাই না। IIEST - আমি আমি ইএসটি। UIEST (Universal Institute of Engineering, Science and Technology) হলে কি খারাপ হতো? তাহলে ইউ আই মিলে তুমি আমি, মানে হাম তুম, মানে আমরা হতাম। তা নয় শুধু আমি আমি। পূর্বে এত অহংবোধ ছিল না। BEশেষতঃ, আমরা যখন BECA-র যুবক ছিলাম।

 

কিন্তু ভাল করে দাঁড়িয়ে যাবার আগেই যাবতীয় মস্তিতে দাঁড়ি পড়ে গেল। এবার সবাই আমি আমি করবে। মাঝের কমাটা তবু কমা উচিৎ। ওটা ছিল বলেই (GEC, Shibpur / CEC, Shibpur / BEC, Shibpur / BECDU, Shibpur / BESU, Shibpur) আমাদের কমার্সের দুর্বলতাটা আর কমানো গেল না। সার্টিফিকেটে একটা কমা ছিল তাই তো জীবন ক্ষমা করল না।

 

তবে আমি আমি ইএসটি হলে শুনছি হয়তো মানসিকতার আমুল পরিবর্তন হবে। কি আশ্চর্য - কেন্দ্রে পরিবর্তন হলে সেটাও নাকি আমুল হবে - মানে আমুলের রাজ্য গুজরাট থেকে হবে। আর আমাদের বিক্কলেজও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হলে মানসিকতার আমুল পরিবর্তন। সেই ছাত্র, সেই শিক্ষক, সেই প্রাক্তনি, সেই ক্যাম্পাস - তবুও। আরও কিছুদিন মিনিবাসের কন্ডাক্টর হেঁকে যাবে বিক্কলেজ বিক্কলেজ।

 

আচ্ছা এই 'আমি আমি' করা কে ইংরাজিতে কি বলে? নার্সিসিজম। মানে সেই হিটলারের যেটা ছিল? তাই বুঝি ওনার দলের নাম ন্যাৎসি ছিল? কিন্তু লোকটার ভাবনাচিন্তাগুলো ভুলভাল হলেও হিট করেছিল। তাই আমাদের আড্ডাটা ভুলভাল হলেও IIEST Shibpur হিট করুক সুপার ডুপার হিট।  

Friday, December 6, 2013

- ২৩. শিবপুর পলিটেকনিক ও আমতলা স্টেট ওয়েলফেয়ার হোম

 

- ২৩. শিবপুর পলিটেকনিক ও আমতলা স্টেট ওয়েলফেয়ার হোম

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আনন্দের সাথে জুড়ে ছিল দেশভাগের বিষাদ। হাজার হাজার ভূমিহীন জীবিকাহীন নরনারীর ঢেউ এসে আছড়ে পড়লো সীমান্তপার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গ ব্যতিক্রম নয়। সরকার থেকে চালু করা হল পি এল ক্যাম্প পার্মানেন্ট লাইবিলিটি ক্যাম্প। বি ই কলেজের বকুলতলায় ছিল একটা সাময়িক পি এল ক্যাম্প। স্বর্গীয় নারায়ন সান্যালের লেখা বকুলতলা পি এল ক্যাম্প বা দণ্ডকারণ্য কাহিনী অনেকেরই নিশ্চয়ই পড়া। রাজনৈতিক বা সামজিক প্রেক্ষাপট ছেড়ে আসা যাক বি ই কলেজে এই ঘটনার ফলে দীর্ঘস্থায়ী কিছু পরিবর্তনে।

 

দেশভাগের আগে থেকেই ছিল শিল্পের জন্যে দক্ষ কারিগরের চাহিদা। দেশভাগের পর নতুন প্রশাসনিক রদবদলে সেই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেল। সরকারের কাছে প্রস্তাব গেল যে অনেকেই অর্থ বা মেধার জন্যে স্নাতক পর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলেও কারিগরি শিক্ষা পেলে একটা ভদ্রস্থ জীবনযাপন করতে পারে।  এছাড়াও পূর্ববঙ্গ থেকে আগত শরণার্থীদের মধ্যে যোগ্যদের ট্রেনিং দিয়ে শিল্পে কারিগরি কাজে লাগানো যেতে পারে। উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে (ডিসপারসাল স্কিম) এই পরিকল্পনা রুপায়নের  প্রস্তাব নেওয়া হয়।

 

পশ্চিমবঙ্গের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে বি ই কলেজ চত্বরেই চালু হয় শিবপুর পলিটেকনিকের ১২ ই জুলাই, ১৯৫০ সালে। মেইন বিল্ডিং-এর পিছনের ওয়ার্কশপগুলিতেই ক্লাস হতো পলিটেকনিকের। যার মধ্যে কিছু ওয়ার্কশপ এখন ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় টিকে আছে। বাকি কয়েকটি স্নাতকস্তরের ব্যবহৃত হয় অথবা পলিটেকনিকের নিয়মিত ক্লাস হয় বলে রক্ষনাবেক্ষন করা হয় এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নও হয়েছে।

 

প্রথম থেকেই শিবপুর পলিটেকনিক ছিল বি ই কলেজের একটি অংশ। বি ই কলেজের প্রিন্সিপাল পদাধিকার বলে শিবপুর পলিটেকনিকেরও প্রিন্সিপাল হতেন।  কলেজ ও পলিটেকনিকের বেতনক্রমও ছিল একইরকম। পুরনো অ্যাডমিন বিল্ডিং বা মেইন কলেজ বিল্ডিং-এই পলিটেকনিকের অফিস ছিল। ছাত্রদের এক বছরের ট্রেনিং নিতে হত যার মধ্যে একটা ভাগ ছিল প্রাথমিক শিক্ষা আর বাকিটা নিজ নিজ বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বৃত্তিমুলক শিক্ষা। দুটি সেশনে ছাত্ররা ভর্তি হতে পারতো, সেগুলি শুরু হতো পয়লা জুলাই আর পয়লা জানুয়ারী থেকে। ধীরে ধীরে একসময় প্রায় একশটি শাখায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

 

প্রশিক্ষণের এক চতুর্থাংশ জুড়ে থাকা প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যে থাকতো সমাজ বিজ্ঞান, ইংরেজি ভাষা, সরল গনিত, সাধারন বিজ্ঞান, নকশা তৈরী, ব্লু প্রিন্ট পড়া ইত্যাদি। বাকি তিন চতুর্থাংশের প্রশিক্ষণ হতো কর্মশালায়। প্রথমদিকের কিছু বিভাগের মধ্যে ছিল

ক. অটোমোবাইল মেকানিক,

খ. ব্ল্যাকস্মিথ,

গ. কারপেন্টার,

ঘ. ইলেকট্রিশিয়ান,

ঙ. ইলেকট্রোপ্লেটার,

চ. ফিটার,

ছ. আই সি ইঞ্জিন মেকানিক,

জ. ল্যাবরেটরী হেল্পার,

ঝ. মেশিনিস্ট,

ঞ. ম্যাসন,

ট.  মোল্ডার,

ঠ. প্যাটার্ন মেকার,

ড. পেন্টার,

ঢ. প্লাম্বার,

ণ. রেডিও মেকানিক,

ত. রেফ্রিজারেশন মেকানিক,

থ. রনিও প্রিন্টার,

দ. শিট মেটাল ওয়ার্কার,

ধ. টুল মেকার,

ন. ট্রেসার,

প. টার্নার,

ফ. ওয়েল্ডার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শাখা।

 

পলিটেকনিক শুরু হবার অল্পদিন পরেই পঁচাত্তর জন অনাথ যুবকের টেকনিক্যাল ট্রেনিং স্কিমের অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু হয় বি ই কলেজে ১৯৫১ সালের ২১ শে জুন থেকে। এই বিদ্যার্থীরা থাকতো কলেজ থেকে এক মাইল দূরে ক্যারি রোডে আমতলা স্টেট ওয়েলফেয়ার হোমে। একজন সুপারের দায়িত্বে এদের সমস্ত খরচ (থাকা, খাওয়া, জামাকাপড়, খেলাধুলো ইত্যাদি) বহন করতো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের  শিক্ষা দপ্তর। দুই থেকে পাঁচ বছরের বিভিন্ন পাঠক্রমে এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বিভিন্ন শাখায়। শাখাগুলির যে তালিকা পাওয়া যায়, তা হল

ক. রেডিও মেকানিসম,

খ. রনিও প্রিন্টিং,

গ. ইলেকট্রোপ্লেটিং,

ঘ. ম্যাসনারি,

ঙ. পেইন্টিং,

চ. ওয়েল্ডিং,

ছ. টিন স্মিথি,

জ. টার্নিং,

ঝ. অটোমোবাইল মেকানিসম,

ঞ. ইলেক্ট্রিক,

ট. আই সি ইঞ্জিন মেকানিসম,

ঠ. প্যাটার্ন মেকার,

ড. ফিটিং,

ঢ. ব্ল্যাক স্মিথি,

ণ. কারপেনট্রি,

ত. মোল্ডিং,

থ. মেশিনিস্ট,

দ. প্লাম্বিং।  

 

পড়াশুনোর সাথে সাথে স্টেট ওয়েলফেয়ার হোমের ছেলেরা অভিনয়ে অংশগ্রহন করতো। এরা পলিটেকনিকের অন্যান্য বিদ্যার্থীদের সাথে বার্ষিক ক্রীড়া বা সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতো এবং কলেজের রাষ্ট্রীয় রণশৈক্ষবাহিনীর (NCC) প্রশিক্ষণ নিত। ১৯৫৪ সালের মার্চ নাগাদ ফার্স্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন এনসিসির অধীনে ৩৩ জন ক্যাডেটের একটা জুনিয়র ডিভিশন এনসিসি বাহিনী ছিল। তখন থেকে ধারাবাহিকভাবে এই বাহিনী বিভিন্ন বার্ষিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে অংশগ্রহন করতো।

 

আমতলা স্টেট ওয়েলফেয়ার হোম প্রথম থেকেই বি ই কলেজের অধীনে ছিল। পরে এই স্কিমটি বাতিল হয়ে যায়। সুত্র অনুসারে এখন হোমের একটিমাত্র কর্মচারী রাজ্য সরকারের অন্য একটি বিভাগে ডেপুটেশনে কর্মরত। স্টেট ওয়েলফেয়ার হোমের বাড়িটি পরবর্তীকালে পোড়ো বাড়ী হয়ে যায় এবং সমাজবিরোধীদের আখড়া হয়ে ওঠে। কলেজের থেকে দূরে হওয়ার জন্যে রক্ষনাবেক্ষন এবং নজরদারিরও সমস্যা হত। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর কার্যালয় হিসেবে একটি জায়গার দরকার পড়লে, বি ই কলেজের শেষ প্রিন্সিপ্যাল এবং ডিমড ইউনিভার্সিটির প্রথম ডিরেক্টর ডঃ বিমল সেন এক চুক্তি অনুসারে এই জায়গাটি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

 

প্রথম থেকেই শিবপুর পলিটেকনিকে পাশ করা ছাত্রদের বি ই কলেজের প্রিন্সিপ্যাল প্রশংসাপত্র প্রদান করতেন। ১৯৫৬ সাল থেকে ভারতে আইটিআই পাঠক্রম শুরু হয় কারিগরি শিক্ষানবিশ তৈরি করার উদ্দেশ্যে। পাশ করা ছাত্রদের ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রেনিং (ডিটি) থেকে প্রশংসাপত্র প্রদান করা হত। স্বাভাবিকভাবেই শিবপুর পলিটেকনিক থেকে পাশ করা ছাত্রদের প্রশংসাপত্রের বৈধতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই সমস্যায় ছাত্রসংখ্যাও যথেষ্ট হ্রাস পায়। ১৯৮৬ সালে শিবপুর পলিটেকনিককে বি ই কলেজের অধীনে রেখেই আইটিআই পর্যায়ে উন্নীত করা হয়, যদিও মোট অনুদানের অঙ্ক সমান থেকে যায়।

 

ঠিক হয় এই অনুদানে চালানোর জন্যে বিভাগের সংখ্যা কমিয়ে সাতটিতে নিয়ে আসা হবে

ক. ফিটার,

খ. ইলেক্ট্রিসিয়ান,

গ. টার্নার,

ঘ. মেশিনিস্ট,

ঙ. মেকানিক মটর ভেহিকেল

চ. টুল অ্যান্ড ডাইমেকার

ছ. ড্রাফটসম্যান

 

এছাড়াও সম্বন্ধযুক্ত কিছু শাখার অনুমোদন থাকলেও প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় না, যেমন

ক. কারপেনট্রি,

খ. শিট মেটাল,

গ. মোল্ডিং,

ঘ. স্মিথি অ্যান্ড ওয়েল্ডিং।

 

১৯৯৩ সালে বি ই কলেজ কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় - বি ই কলেজ (ডিমড ইউনিভার্সিটি)। নিয়ম অনুসারে তৎকালীন প্রিন্সিপ্যাল পলিটেকনিকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। পলিটেকনিকের প্রশিক্ষকদের মধ্যে একজনকে নির্বাচিত করা হয় পলিটেকনিকের দায়িত্বভার সামলানোর জন্যে। শিবপুর পলিটেকনিক ডিমড ইউনিভার্সিটির অধীনে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কলেজে পরিণত হয়। এতদিন স্নাতক স্তরের ক্লাসের পাশাপাশি ফাঁকা সময়ে একই ওয়ার্কশপে পলিটেকনিকের প্রশিক্ষণ ও পঠনপাঠন চলতো। ধীরে ধীরে ডিরেক্টর ডঃ স্পর্শমণি চ্যাটার্জির আমলে অব্যবহৃত দুর্গাপুর হোস্টেল ভবনের সংস্কার সাধন করে পলিটেকনিক ওয়ার্কশপ ও প্রশাসনিক ভবন নিয়ে আসা হয়। কিছুদিন পর থেকেই শুধুমাত্র পলিটেকনিকের জন্যে সম্পূর্ণ সময়ের প্রিন্সিপ্যালের পদ সৃষ্টি করা হয়। ২০০৩ সালে শিবপুর পলিটেকনিকের নাম পরিবর্তন হয়। নতুন নাম হয় শিবপুর আই টি আই।

 

শুরু থেকে প্রতি বিভাগের জন্যে একজন করে প্রশিক্ষক থাকতেন এবং এক ইউনিট মানে ১৬ টি করে বিদ্যার্থী ভর্তি করা হত। ২০০৮ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) মডেলে ভারত সরকারের ডাইরেক্টর জেনারেল অফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং  (Directorate General of Employment & Training - DGET) এর অধীনে এটিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে উন্নীত করার প্রস্তাবনা আনা হয়। পিপিপি মডেলে নতুন একটি বিভাগের অনুমোদন পাওয়া যায় ইলেক্ট্রিক্যাল। পূর্বোক্ত বিভাগগুলির মধ্যে ফিটার এবং ইলেক্ট্রিসিয়ান পিপিপি মডেলে চালু ইলেক্ট্রিক্যালের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই বিভাগে ছয় ইউনিট বা ১২৬ করে ছাত্রছাত্রী নেওয়ার কথা ঠিক হয়। সম্মতি পাওয়া যায় আগেকার অন্যান্য বিভাগে ছাত্রসংখ্যা বাড়িয়ে ২১ জন করে করার। যদিও কার্যক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে এককালীন একটা তহবিল বাদে অন্য কিছুর সুরহা হয়নি। দরকারি প্রশিক্ষকের অনুমোদন, উপযুক্ত জায়গা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে অনুদান এসব এখনও বিশ বাঁও জলে।

 

ইতিমধ্যে পুরনো ওয়ার্কশপ বিল্ডিং-এর পাশে পলিটেকনিকের একটি বাড়ী তৈরী শুরু হয়। কিন্তু বেশ কিছুটা কাজ হয়ে যাবার পরেও সরকারী নিষেধাজ্ঞায় সেটির কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। সম্প্রতি একটি প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, পলিটেকনিককে থার্ড গেটের কাছে, লো কষ্ট হাউসগুলির পাশে ২ বিঘা জমিতে স্থানান্তরিত করার। যদিও প্রয়োজনীয় অনুদান এবং চূড়ান্ত সইসাবুদের কাজ লাল ফিতের ফাঁসে বন্দী। যদিও আশার কথা এখন চালু সাতটি বিভাগের কোনটিরই আসন ফাঁকা পড়ে থাকে না। পরিশেষে ২০০৩ সালে শিবপুর পলিটেকনিক নামবদল করে শিবপুর আইটিআই নামে পরিচিত।

 

তথ্যসুত্রঃ বি ই কলেজর শতবর্ষ পূর্তি পত্রিকা এবং বর্তমান আইটিআই প্রিন্সিপ্যাল ও অন্যান্য প্রশিক্ষকবৃন্দ।

 

পুনঃ গত সপ্তাহে তথ্য সংগ্রহে আইটিআই গিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলাম। কিন্তু আইটিআই-এর দৈনদশা দেখে খুব খারাপ লেগেছিল। আমাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবার পরে এক প্রশিক্ষক জানতে চান এগুলো আমি শুধু জানতে এসেছি না কোথাও লিখবো। লিখবো বলতে খুব উৎসাহিত হয়ে করুণসুরে ওনারা বললেনঃ দেখুন ডঃ বিমল সেনের পরেও ডঃ স্পর্শমণি চ্যাটার্জি ও বর্তমান উপাধ্যাক্ষ ডঃ অজয় রায়ের সহযোগিতা এবং আন্তরিকতা থাকলেও পয়সার বড়ই অভাব। দেখুন আমাদের টয়লেট বা ক্লাসরুমের অবস্থা। আপনারা, প্রাক্তন ছাত্ররা তো কলেজের অনেক কিছুর উন্নতি সাধনের অনেক কিছু উদ্যোগ নেন। দেখুন না যদি আমাদের জন্যে কিছু করা যায়। যদি প্রতিশ্রুত সরকারী অনুদান একটু তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। চেষ্টা করবো বলা ছাড়া আমার কাছে কোন উত্তর ছিল না।