Tuesday, April 9, 2013

৯. পূর্বকথা এবং প্রথমার্ধ


- ৯. পূর্বকথা এবং প্রথমার্ধ 

তিহাস থেকে আবার ফিরে আসা যাক স্মৃতিচারণে। আমার বাবা ছিলেন রাজ্য সরকারের নিবন্ধীকরণ বিভাগের কর্মচারী। অবসর নেন ২০০৬ সালে ডি আই জি, রেজিস্ট্রেশন হিসেবে। বাবার চাকরির সুবাদে আমার পড়াশুনো হয়েছে বিভিন্ন শহরে। প্রত্যেক জায়গায় দুই বা তিন বছর করে থাকতাম, নতুন বন্ধু হতো, আবার তল্পিতল্পা গুটিয়ে অন্য শহরে; হয় পদোন্নতির সুবাদে বা নিয়মাফিক বদলির জন্যে। প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় নদীয়ার বেথুয়াডেহারীতে। মনে আছে তখনও স্কুলে ডাবল প্রমোশন পদ্ধতি চালু ছিল এবং আমার সৌভাগ্য হয়েছিল একবার সেই  যোগ্যতামান স্পর্শ করার। তারপর বর্ধমানের মঙ্গলকোট, পুরুলিয়ার ঝালদা, দক্ষিন চব্বিশ পরগনার জয়নগর মজিলপুর ঘুরে মাধ্যমিকে বসেছিলাম পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থেকে। তারপর আমরা চলে আসি বর্ধমান জেলার অম্বিকা কালনাতে। 

আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসাটা অনকেটা পাকেচক্রে পরে। ১৯৯৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক দেবার আগে আমার অনেক সহপাঠী আসে বাবার কাছে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফর্মে এটেস্টেড করানোর জন্যে। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, আমার সহপাঠীদের কাছ থেকে জেনে বাবা মায়ের ইচ্ছাপূরণের জন্যে একদম শেষ পর্যায়ে আমি ফর্ম তুলে আনি। আমার নিজের ইচ্ছে ছিল পদার্থ্যবিদ্যায় স্নাতক পড়ার, তাই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের (যুগ্ম অনুপ্রবেশ) পরীক্ষাও দি' অনেকটা গাছাড়া ভাবে। মনে আছে রসায়নের কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবার পর যখন কিছুই মাথায় ঢুকছে না আর পাশের মাঠ থেকে মাইকে ভেসে আসছে 'ও লাল দোপাটে বালি  তেরা নাম তো বাতা'; আমার মতই অবস্থ্যা এমন দু চারজন বন্ধুর সাথে বেঞ্চ বাজিয়ে সঙ্গত দিতে যাওয়ায় পর্যবেক্ষক জোর করে আমাদের খাতা নিয়ে জামা করে নেন ও আমাদের অর্ধচন্দ্র দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বের করে দেন। আমারও খুব একটা অসুবিধে ছিল না, কারণ যা লিখেছিলাম তাতে পাশ করার সুযোগ ছিল না। আর শুনেছিলাম জয়েন্ট বড় শক্ত, এইসব মফস্বল শহর থেকে সহজে কেউ সুযোগ পায়না, আর পেলেও তার জন্যে বিশেষ তালিম নিতে হয় কলকাতায় গিয়ে এবং দুতিন বছর লেগে থাকতে হয়। আসলে সত্যি বলতে জয়েন্ট সম্বন্ধে খুব একটা স্পষ্ট ধারনাই ছিল না।

তবু যে কিভাবে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলাম সেটা নিজের কাছেই রহস্য। পরে জেনেছিলাম জয়েন্টে পদ্ধতিটাই অন্যরকম। আমি কতটা ভালো পরীক্ষা দিলাম, তার থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ বাকিরা কতোটা খারাপ দিল। সব থেকে বিপদ হলো কলেজগুলিতে স্নাতকে সুযোগ পাওয়া প্রার্থীদের নাম বেরোনোর আগেই জয়েন্টের নাম বেরিয়ে গেল। ডাক্তারীতে দ্বিতীয় তালিকায় নাম বেরিয়েছিল, তাই সেটা আমার পদার্থ্যবিদ্যায় স্নাতক পড়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে দিলেও; ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রথম তালিকাতেই কালনা শহর থেকে সেই বৎসর একমাত্র আমার নাম দেখে অন্যরা যত চমকিত হয়েছিল, তার থেকে বেশি অবাক হয়েছিলাম আমি নিজেই। আরো একটা কারণ ছিল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে দু-তিনমাস বাড়িতে বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা এবং আমার নিজের উৎকণ্ঠাজনিত মানসিকবিকার বা এংজাইটি নেউরোসিসে আক্রান্ত হওয়া। কিছুটা মনক্ষুন্ন হয়েছিল সেই দুই সহপাঠী যারা আমাকে জয়েন্টে বসানোর জন্যে বাবাকে প্রভাবিত করেছিল।

আমার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ক্রম হয় ১১৪৩। জয়েন্ট সম্বন্ধে ধারণা না থাকাতে এবং পদার্থ্যবিদ্যা পড়ার সুপ্ত ইচ্ছায় আমি প্রথম জয়েন্টের বিবরণপত্র খুলে হিসেব করতে বসেছিলাম সর্বমোট আসন সংখ্যা। সব কলেজ মিলিয়ে যে তালিকা ছিল যোগ করে দেখলাম মোট স্থান প্রায় ৯৫৩, তাই সদর্পে ঘোষনা করে দিলাম আমার দ্বারা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া হবে না। সত্যি বলতে কি আমার মোটা বুদ্ধিতে সেটাই বুঝেছিলাম। এত শক্ত পরীক্ষায় সুযোগ পেয়ে কেউ আমাকে জায়গা ছেড়ে দেবার কোনো কারণ দেখতে  পাই নি। তবু বাবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবার জন্যে খোজখবর নিয়ে ঠিক করলেন বর্ধমান শহরের এক নামকরা বিজ্ঞানের শিক্ষকের কাছে যাবেন। ঠিক করা দিনে কালনা থেকে এসে সর্বমঙ্গলা পাড়ায় ওনার বাড়ীতে হাজির হয়ে দেখলাম, খুব নামডাক আর প্রচণ্ড ব্যস্ত। বাড়িতে শিক্ষাদানের বহর দেখে সম্ভ্রম হয়। টিউশন পড়ার জন্যে কয়েক শত সাইকেল বাড়ীর নিচে দাঁড় করানো। তার থেকে বেশী সংখ্যায় সাইকেল শুধু ইষ্টিশানেই দেখেছি। শিক্ষক মহাশয়কে বাবা আমার পরিচয় দিয়ে পরামর্শের উদ্দেশ্য বলায় তিনি হাসি মুখে একঘর ছাত্রছাত্রীর সামনে বললেন 'হুম, আমি দেখেই বুঝেছিলাম আপনার ছেলের প্রতিভা আছে। আর দেখেছেন তো কেমন তালিম দিয়েছি এক সুযোগেই লাগিয়ে ফেলেছে'। আমি অবাক, বাবাও হতভম্ব হয়ে কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, 'আজ্ঞে, আমরা তো কালনাতে থাকি। আমার ছেলে ওখান থেকেই পড়াশুনো করে সুযোগ পেয়েছে। অমুকের কাছে শুনে আপনার কাছে একটু পরামর্শ নিতে এসেছিলাম'। কয়েকজন দেখলাম হাসি চাপার চেষ্টা করছে, আর বাবার ওই অকপট সত্যভাষণে শিক্ষকমহাশয় খুব বিরক্ত হয়ে মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে এবার বললেন, 'এই ক্রম নিয়ে কি আর হবে? দেখুন যদি জলপাইগুড়িতে সিরামিকসে সুযোগ পায়'। বাড়ী ফিরে দেখলাম জলপাইগুড়িতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মৃৎশিল্প বা সিরামিকস নেই। তাই আবার ধরে নিলাম দৌড়াদৌড়ি করে লাভ নেই। যাক পদার্থ্যবিদ্যা নিয়ে মন দিয়ে পড়া যাবে। 

তবু আমি যে শেষ পর্যন্ত্য বি ই কলেজে হাজির হয়েছিলাম তা হয়ত উপরওয়ালার ইচ্ছে। না হলে হয়তো অনেক কিছুই জীবনে ঘটতো না বা অনেক কিছুর অভাব থেকে যেত। যাই হোক আমাদের সময় সুযোগ পাওয়া ছাত্রদের ঝাড়াই বাছাই করার কাজটা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে দুর্গাপুর না যাদবপুর না শিবপুর এই দোলায় দুলতে দুলতে শিবপুরের সিভিলটাই বেছে ফেললাম।

এরপর আস্তে আস্তে কলেজের নিয়মকানুন পাড় করে আর শুরুর সেই সব দিনগুলি পেরিয়ে কেমন করে আস্তে আস্তে বি ই কলেজের ছেলে হয়ে গেলাম সেটা আগেই কিছুটা বলেছি। কলেজকে আমরা গ্রাস করলাম আর কলেজ আমাদের গ্রাস করলো। শুরুর ক্লাসগুলোর থেকেও বেশী মন টানতো খুরশিদদার কলেজ কান্টিন। অনেক সময় পাঁচ মিনিটের জন্যে গিয়ে এক ঘন্টার আগে ফিরে আসতে পারতাম না। প্রথম দিকের খাতা বই ছাড়াও সাথী ছিল একটা করে ড্রয়িং বোর্ড। রেওয়াজ ছিল আগের বছরের ছেলেদের কাছ থেকে কম দামে বই বা অনান্য জিনিস পত্র কিনে নেবার। ড্রয়িং ক্লাসে মজা হত অনেক, বেশ একটা পিকনিক করার মত অনুভুতি। পিছনের জনের অঙ্কনের পাতা থেকে কাঁটা মেরে মাপ টুকে নিজের পাতায় বসানো। আর ঘাড়ে করে অঙ্কনের যন্ত্রপাতি আর বগলে ড্রয়িং বোর্ড নিয়ে ক্লাসে আসা আর ক্লাস শেষে হোস্টেল ফেরত আসা। ছিলাম ছাত্র, হলাম শিক্ষিত কুলী। এই ক্লাসের অধ্যাপক ছিলেন প্রোঃ মুস্তাফা। থাকতেন কলেজ বিল্ডিং-এর কাছেই, ১৪-১৫ নং ছাত্রাবাসের পিছনে অধ্যাপকদের জন্যে নির্দিষ্ট বাসস্থানে। মনে আছে আমাদের শেষ দিকে উনি অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন। নাম হয়তো মনে রাখতেন না, কিন্তূ রোল নম্বর ছিল মুখস্ত। অনেকদিন পরে হঠাৎ দেখা, অভিবাদন করতেই বললেন 'রোল নম্বর ৬৭, কি খবর'?

এছাড়া ছিল কিছু অবিভাগীয় বিষয়। কিছু কিছু বিষয় কেন ছিল, পড়ে কি লাভ হতো বুঝতে পারিনি। সেই সব ক্লাসের শিক্ষকরা ছিলেন আমাদের ভাষায় 'সাদা নেংটি', 'কালো নেংটি', 'লাস্কি', 'বেগুন', 'কালো মিঠুন' ইত্যাদি। অনেকেই ইংরিজিতে শিক্ষাদান করতেন। তাদের বিজাতীয় ভাষার স্বজাতীয় উচ্চারণ অনেক সময় আমাদের মত মফস্বলের ছেলেদের মাথায় ঢুকত না। তবে সবাই যে আমার মতো ছিল, তা নয়। কেউ কেউ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে এসেছিল বা বাইরের কোনো রাজ্য থেকে। তাই ভরসা হতো জেরক্স সেন্টারে গিয়ে যারা বুঝত বা না বুঝে টুকতো, তাদের খাতার নকল করা। আবার অনেকে একটা অদ্ভুত  ভাষায় কথা বলতো, যেটা বাংলা, ইংরিজি আর হিন্দির জগাখিচুড়ি। মনে আছে আমাদের ক্লাসের এক সহপাঠিনীর সিনেমাহলে গিয়ে পায়ের উপড় দিয়ে ছুঁচো চলে যাবার বিবরণ। অন্য এক বান্ধবীকে যা বলতে শুনেছিলাম সেটা এইরকম, "জানিস তো কাল লিপিতে মুভি দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তূ হলটা কি ডার্টি! হঠাৎ অন্ধকারে আমার পায়ের উপড় দিয়ে একটা মোল স্ক্রল করে গেল আর আমি ভয়ে স্ক্রিম করে উঠলাম। থাঙ্কস গড ভাগ্যিস কোনো স্নেক ছিল না। আমার তো ভাই ভয়েই হার্ট এট্যাক হয়ে গিয়েছিল"

প্রথম বছরে রাগিং পিরিয়ড শেষ হবার পড় একটু নিশ্বাস ফেলে চারদিকটা ঘুরে দেখতে দেখতেই চলে এলো মিড সেমেস্টার পরীক্ষা। কোনো রকমে বুঝে উঠার আগেই প্রথম পরীক্ষা শেষ। সিনিয়ার দাদারা ভরসা দিলো এতে পাস বা ফেল করলেও চূড়ান্ত মূল্যায়নে কোনো ফারাক পড়বে না। মোটামুটি সবাই বেশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে শেষ করলো। তার কিছুদিন পরেই ফার্স্ট সেমেস্টার। আমরাই ছিলাম ডিমড ইউনিভার্সিটির প্রথম ব্যাচ। তাই জানলাম আমাদের সময় মুল্যায়ন পদ্ধতি একটু বদল হবে। এতএব একটু মন দিয়ে পড়ো মানে গাঁতাও। কলেজে সব কিছুর একক থাকত সব ইয়ারেই। যে বেশী ছড়ায় সে হলো ইউনিট বা একক। ধরা যাক দিন্দা বলে কেউ যখন তখন ছড়ায়। কেউ খুব ছড়িয়ে ফেললে আমরা হইহই করে বললাম তুই ৩ দিন্দা ছড়িয়েছিছ। সেরকম কতটা পড়াশুনো করছে সেই অনুসারে কতো ইউনিট গাঁতালো। মেয়েরা সাধারনতঃ বেশী পড়াশুনো করতো আর অনেক সময় রেজাল্টও ভালো করতো। খুব কম মেয়ে ছিল যারা পরীক্ষায় ছড়াতো। এর একটা সাধারণ ব্যাখ্যা ছিল যে মেয়েদের করার কিছু ছিলনা, তাই হাফ ডিম খেত আর গাঁতাতো। স্বাভাবিক কারণেই আমি এই ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলতে পারব না। তবে ছেলেদের হোস্টেলে সারা বছর হইচই বা অন্যান্য পাঠক্রমের বাইরের বিষয় ও কারণ নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকা হত।

ফার্স্ট সেমেস্টারে বিষয়গুলো থাকতো সব বিভাগেই সমান। অঙ্ক, পদার্থ্যবিদ্যা, রসায়ন, অঙ্কন এইসব ছাড়াও থাকতো সেসনাল, মানে ল্যাব। পদার্থ্যবিদ্যা বা রসায়নের ল্যাবে কোনো অজ্ঞাত বা অনুমেয় কারণে কিছু বিশেষ বা সুন্দরী ছাত্রীরাই বেশী নম্বর পেত আর বাকিদের কপালে জুটতো একটা কিছু গড়পড়তা নম্বর। তবে এতে সেইসব ছাত্রীদের কোনো দোষ বা গুন না থাকলেও, সেইসব ল্যাবের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক বা সহকারীদের চরিত্রের একটি দোষই বেশী দায়ী। যেটাকে অনেকে আলুর দোষ বললেও, দোষটা নিরামিষ না আমিষ সেই নিয়ে তর্ক চলতে পারে। আর থাকতো কিছু ওয়ার্কশপ, যেমন ওয়েল্ডিং, কার্পেনট্রি ইত্যাদি। সেই সব ওয়ার্কশপ যে কেন করতে হতো আজও বুঝে উঠতে পারিনি। তবে সত্যি বলতে কি আমরা খুব কমই করেছি, প্রায় পুরোটাই করে দিত সেই সব ওয়ার্কশপের ভারপ্রাপ্ত সহকারীরা। হয়তো আমাদের হাতে পড়ে সরঞ্জামের পঞ্চত্বপ্রাপ্তির ভয়েই।

সবথেকে বেশী উৎপাত ছিলো দুটো অদ্ভুত বিষয় নিয়ে। একটা সামাজিক বিজ্ঞান বা Socio বা সোশ্যাল সাইন্স এবং আর একটা প্রযুক্তিগত যোগাযোগ বা টেকনিকাল কমিউনিকেশন বা TCMN বা সোজা কথায় ইংলিশ। সোশ্যাল সাইন্সে তবু কিছু বুঝে ওঠা যেতো, কিন্তূ TCMN-এর সিলেবাসটা কে বা কারা আবিস্কার করেছিলো সেটা অনেক ইতিহাসে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। তবে সেখানো হত ING ওয়ার্ড, মানে যে সব শব্দ ING দিয়ে শেষ হয়। এরকম আরো ছিল ANT ওয়ার্ড, TION ওয়ার্ড। সেগুলো থেকেই আবার পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতো। তাছাড়া সিনিয়াররাও যেহুতু এগুলো শোনেনি তাই মিথ্যা অভয় দিয়েছিলো যে এই সব ফালতু বিষয়ের নম্বর কোনো ভাবেই কাজে আসবে না। তাই এগুলোর ক্লাস নিয়ে কেউ বিচলিত ছিল না। একবার মনে আছে TCMN ক্লাসে আমাদের এক বন্ধু আর একজনকে একটা পাতায় কিছু অদ্ভুত ইংরিজি অক্ষর লিখে পড়তে বলেছিল। তার একটা অংশ হলো .... VJ SO TP ....বাংলায় এইগুলোর উচ্চারণ এত অশ্লীল হয়েছিল যে সেই নিয়ে প্রচুর বাওয়াল হয়েছিল। আর একটা ঘটনা হয়েছিল। TCMN-র অধ্যাপক ছিলেন কোনো এক প্রোঃ লস্কর, যাকে আমরা লাস্কি বলেই সম্বোধন করতাম, অবশ্যই আড়ালে। তার ক্লাসে আমাদের হাজিরা ছিল খুবই কম। অদ্ভুত উচ্চারণে একদিন শেখাতে শুরু করেছেন ওয়ান, টু, থ্রী, ফোর .....; ছেলেদের মধ্যে কেউ একজন ফোর-এর জায়গায় একটা কিছু উচ্চারণ করেছিল। কথাটা এতই সাংঘাতিক ছিল লাস্কি থাকতে না পেড়ে খুব রেগে জানতে চেয়েছিলেন কে বললো, সামনে এসো। কিন্তূ একটা মনস্তত্ত্ব সেদিন আমরা জানতে পেরেছিলাম। যাই হোক না কেনো, শিক্ষকদের সামনে ছাত্ররা সবসময়ই একতাবদ্ধ। কেউ নাম না বলায় লাস্কি ক্লাসের সব ছেলেকে বার করে দিয়ে শুধু মেয়েদের নিয়ে ক্লাস করেছিলেন। আর আমরা ক্লাসের বাইরে এসে মনের আনন্দে ক্যান্টিনে গিয়ে আড্ডা মেরেছিলাম। শুধু তাই নয় পরপর বেশ কয়েকটা ক্লাসে, লাস্কির ক্লাস শুরু হলেই ছেলেরা একে একে সব কেটে পড়ত। তবে কিছুদিন পর পরীক্ষার চাপে আর ফেল করার ভয়ে আস্তে আস্তে আমাদের তাঁর ক্লাসে প্রত্যাবর্তন ঘটেছিলো। মিড সেমেস্টারে অনেক খাতা লাস্কির মুখ বা কার্টুন আঁকা অবস্থায় জমা পড়েছিল। সোশ্যাল সাইন্স নিয়েও আমাদের অবস্থা এবং পরীক্ষার খাতায় বাঁদরামো ছিল প্রায় একই রকম।

কিন্তূ সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। ফার্স্ট সেমেস্টারের রেজাল্ট বেরোলে দেখা গেল সাড়ে তিনশ' ছেলেমেয়ের প্রায় অর্ধেক (যা মনে পড়ে ১৮৩ জন) TCMN বা Socio তে ফেল করেছিল। সে এক বিচ্ছিরি পরিবেশ। কলেজে একবার ফেল করা মানে সাপলি পাওয়া। পরের সেমেস্টারের সময় নতুন করে সাপলি পাওয়া বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। তাতেও ফেল করলে রিসাপলি। তিনবার একই বিষয়ে ফেল করলে এক বছর নষ্ট। প্রায় সবাই মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে দারুন ফল করা ছেলেমেয়ে। জীবনে কখনো ফেল করেনি। এমনও ছেলেমেয়ে ছিল যারা পরে নিজ নিজ ডিপার্টমেন্ট বা সেই বছরের পুরো ফেকালটিতে ফার্স্ট হয়েছে, কিন্তূ ফার্স্ট সেমেস্টারে ওই একটা খুঁত।

দুটোতেই ছিল ৫০ নম্বরের পরীক্ষা, মানে পাশ করতে হলে পেতে হবে ২০। যারা পাশ করেছিল তাদের প্রায় সবাই ২০, ২১ বা সর্বাধিক ২২ পেয়েছিলাম। কিছু ভাগ্যবানের মতো আমি যদিও কোনোরকমে পাশ করেছিলাম, কিন্তূ তাতেও এক অদ্ভুত বিড়ম্বনা। হোস্টেলে যাদের সাথে বন্ধুত্ব তাদের অর্ধেক TCMN বা Socio তে সাপলি; সপ্তাহান্তে যাদের সঙ্গে বর্ধমান যাই বা কলেজে ফেরত আসি তাদের অনেকেই এইদুটোর কোনো একটায় সাপলি। তাই যারা গণসাপলির শিকার তারা কোনরকমে পাশ করে যাওয়া বন্ধুদের ভাগ্যের উপড় বিক্ষুব্ধ। জানলাম বন্ধুত্ব এমন একটা জিনিস, নিজে পাশ করলাম কিন্তূ বন্ধু ফেল করল,  তাতে দুঃখ হয়। কিন্তূ নিজে ১৯ পেয়ে ফেল করলাম, আর বন্ধু ২০ পেয়ে পাশ করে গেল, তাতে খুব রাগ হয়।

মানুষের রিপুগুলোর তাড়না যাইহোক না কেন, আস্তে আস্তে সময়ে সব মিলিয়ে বা নেতিয়ে যায়। তাই এইসব দুঃখ বা রাগও আস্তে আস্তে উধাও হয়ে যায়। আমরা আবার এক সাথে ঘুরতে ঘুরতে কোলে মার্কেটে ছেঁড়া পরোটা আর জ্যাঠামশাই থেকে পঞ্চাশ গ্রাম টকদই সাথে পঞ্চাশ গ্রাম বোঁদে খেয়ে বিনে পয়সায় ঢুকে পড়ি বোটানিক্যাল গার্ডেনে। তারপর লাস্কির নাম করে গঙ্গার উপড় পাশে পড়ে থাকা ঢেলা ছুঁড়ে শুরু করি 'শালা, বোকা…' ইত্যাদি সম্বোধন এবং প্রয়োগ করি রাগিং পিরিয়ডে শেখা সেই সব তিনমাত্রিক বা বহুমাত্রিক গালাগালিগুলো। খিদিরপুর ডকের চিমনি দিয়ে আকাশের দিকে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠে যাওয়া ধোঁয়ার সঙ্গে সেই পড়ন্ত আলোয় আস্তে আস্তে আমাদের নিজেদের মধ্যে রাগারাগি মিটে যায়, সব খার গিয়ে পড়ে সেই লাস্কির উপড়। হয়তো সেই অধ্যাপকের বেশী কিছু দোষ ছিল না বা ধারণা ছিলোনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিদঘুটে ছেলেদের কিভাবে সামলাতে হয় বা কিছু না লিখলেও কিভাবে পাশ করাতে হয়। কিন্তূ আমাদের কাছে লস্কর তখন তস্করের মতোই নিন্দনীয়। এরপরে আর কখনো এতো গণসাপলির ঘটনা কলেজে ঘটেছিলো বলে শুনিনি।

Saturday, April 6, 2013

৮. শিল্পী ও খ্যাতনামা – সমাপ্তি ও সান্যালনামা

- ৮. শিল্পী ও খ্যাতনামাসমাপ্তি ও সান্যালনামা

ডঃ শংকর সেন ছিলেন বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিকালের স্নাতক পরবর্তী কালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। বামপন্থী ভাবধারায় দীক্ষিত মানুষটি এরপরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুতমন্ত্রী হন। তৎকালীন CESC-র অদক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মাসুলের উপড়-এর প্রভাব নিয়ে তিনি সোচ্চার হন। ডঃ সেনের উদ্যোগ ও পরিকল্পনার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ একটি বিদ্যুত-ঘাটতির রাজ্য থেকে বিদ্যুত-উদ্বৃত্ত রাজ্যে পরিণত হয়। কিন্তূ কথিত যে, কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানের আনা অভিযোগ অনুসারে CESC-র ব্যাপারে কটু মন্তব্য জন্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ডঃ সেনকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দেন। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় কমিটি, পার্শবর্তী রাজ্য এবং ভুটান সহ অনান্য দেশের বিদ্যুত বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৬৭ সালের সিভিলের স্নাতক তথাগত রায় একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী এবং লেখক। ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত্য তিনি ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) -এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি। বর্তমানে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জাতীয় নেতা। তথাগতবাবু মাধ্যমিক পরীক্ষায় স্থানাধিকারী এবং জগদীশ বোস জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিভার বৃত্তিভোগী ছাত্র। বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করে তিনি ভারতীয় রেলে যোগ দেন, পরে রাইটসের জেনারেল ম্যানেজার ও কলকাতা মেট্রো রেলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন পদে কাজ করেন। ১৯৯০ সালে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকপদে যোগদান করেন এবং সেখানে কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিভাগীয় প্রধান। ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত্য ছিলেন TTTI কলকাতার একজন বোর্ড চেয়ারম্যান। এছাড়াও তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের স্নাতক। হিন্দুত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ১৯৮৬ সালে তিনি স্বয়ংসেবক হন এবং ১৯০০ সালে বিজিপিতে যোগ দেন। তিনি দুটি বইয়ের লেখক। একটির নাম ছিল 'My People, Uprooted: A Saga of the Hindus of Eastern Bengal' যা পরে নামপরিবর্তিত হয়ে 'A Suppressed Chapter in History: The Exodus of Hindus from East Pakistan and Bangladesh, 1947-2006' নামে প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে। অন্যটি ২০১২ সালে প্রকাশিত 'The Life and Times of Dr. Syama Prasad Mookerjee' যা পরে হিন্দিতে অনুদিত হয় अप्रतीम नायोक: ड श्यामा प्रसाद मुखार्जी নামে। ষ্টার আনন্দ বা অন্যান্য বাংলা চ্যানেলের কল্যানে দূরদর্শনের পরিচিত মুখ। তথাগতবাবুর ভাই সৌগত রায়, তৃনমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য এবং প্রাক্তন মন্ত্রী।

সিভিলের স্নাতক নারায়ণ সান্যাল (১৯২৪-২০০৫) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি সুপরিচিত ও বহুমুখী লেখক। সান্যাল একজন ঔপন্যাসিক হিসেবেই বেশি পরিচিত হলেও, তিনি পেশায় একজন বিশিষ্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক করার পরে, ১৯৪৮ সালে তিনি বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। এরপর তিনি পূর্তবিভাগ (PWD) এবং পরে ন্যাশনাল বিল্ডিং অর্গানাইজেসন এবং পূর্বাঞ্চলের কেন্দ্রীয় পূর্ত মন্ত্রণালয় ও আবাসনে চাকুরী করেন। তিনি ইনস্টিটিউশন অফ  ইঞ্জিনিয়ার্স-এর ফেলো সদস্য। অন্যান্য বিষয় ছাড়াও তিনি 'বাস্তু বিজ্ঞান' নামে একটি পুরকৌশলের বই লিখেছিলেন।

শোনা যায় কোনো এক সাক্ষাতকারে এক সাংবাদিক শ্রী সান্যালের কাছে জানতে চান 'আপনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার থেকে হঠাৎ লেখক হলেন কি ভেবে'? শ্রী সান্যাল উত্তরে বলেছিলেন 'আপনার প্রশ্নটা হওয়া উচিত ছিল আমি লেখক হতে গিয়ে হঠাৎ করে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলাম কি করে' শ্রী সান্যাল ছিলেন সত্যিই বহুমুখী। তাঁর লেখা বিভিন্ন বই-এর বিষয় বিভিন্ন; যেমন শিশু, বিজ্ঞান, শিল্প ও স্থাপত্য, ভ্রমন, মনোরোগ, প্রযুক্তি, উদ্বাস্তু সমস্যা, ইতিহাস, জীবনী, পশুদের ব্রিটানিয়া, সামাজিক উপন্যাস এবং দেবদাসী ইত্যাদি। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো এই প্রতিভাবান লেখক অনেক বিশ্ববিখ্যাত কাজের উপর ভিত্তি করে লিখতে পছন্দ করতেন। যেমন ১৯৩০ সাল নাগাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানহাটান প্রজেক্টে পরমানু বোমার আবিষ্কারের উপড় লেখা 'বিশ্বাসঘাতক'। ১৯১১ সালের মোনালিসার ছবি চুরির কাহিনীর উপর লেখা 'প্রবঞ্চক' (১৯৮৭) তেমনই আর এক প্রবন্ধ। দেখতে গেলে প্রবঞ্চক হলো দুটি  প্রবন্ধ, একটি মোনালিসা চুরির আসল ঘটনা নিয়ে আর একটি চিত্রকলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ জালিয়াতি নিয়ে। তেমনই তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী 'নক্ষত্রলোকের দেবতাত্মা', যার ভিত্তি মানব জাতির আদিম জীব থেকে সমগ্র পৃথিবীর নিয়ন্ত্রক সভ্য বুদ্ধিমান প্রজাতিতে রূপান্তর এবং তারপর বৃহস্পতি গ্রহের অন্বেষণ ও একটি সুপার কম্পিউটার হ্যাল। তিনখন্ডে প্রকাশিত এই কাহিনীর অনুপ্রেরণায় ২০১১ সালে আর্থার ক্লার্কের লেখা 'A Space Odyssey' যদিও নারায়ণ সান্যালের ভাষায় হ্যাল একটি 'যন্ত্র-না'

১৯৬৯ সালে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পান 'অপরূপা অজন্তা'র জন্য, ২০০০ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান 'রূপমঞ্জরী'র জন্য এবং পান নরসিংহ দত্ত পুরস্কার সহ সাহিত্যের জন্য আরোও বেশ কিছু পুরস্কার। তাঁর অনেক বই থেকে সিনেমা তৈরি হয়েছে এবং তিনি বাঙ্গালী ফিল্ম সাংবাদিকদের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের কাহিনীকার পুরস্কার পান 'সত্যকাম' লেখার জন্যে। প্রদীপ দত্তের লেখা নারায়ণ সান্যালের জীবনী - 'আমি নারায়ণ সান্যালকে দেখেছি' সান্যালের গ্রন্থপঞ্জি নিচে দেওয়া হলো:

Å চলচ্চিত্রে নারায়ন সান্যাল:
১। 'সত্যকাম' উপন্যাস থেকে একই নামে ১৯৬৯ সালে হৃষিকেশ মুখার্জি নির্দেশিত এবং  ধর্মেন্দ্র, শর্মিলা ঠাকুর, রবি ঘোষ এবং অশোক কুমার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্র
২। 'নাগচম্পা' উপন্যাসের উপড় ১৯৭৪ সালে নির্মীত বাংলা ছায়াছবি 'যদি জানতেম'; যাত্রিক নির্দেশিত এবং রুমা  গুহ ঠাকুরতা, উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া চৌধুরী, বসন্ত চৌধুরী, কমল মিত্র ও হারাধন ব্যানার্জী অভিনীত। নারায়ন সান্যাল এই সিনেমার সংলাপও লিখেছিলেন।
৩। ১৯৮৩ সালে 'অশ্লীলতার দায়ে' উপন্যাসের উপড় একই নামে চিরঞ্জিত অভিনীত বাংলা সিনেমা।
৪। ১৯৯১ সালে ইন্দ্রানী হালদার, তাপস পাল ও অনুপ কুমার অভিনীত 'নীলিমায় নীল'

Å শিশু ও কিশোর সাহিত্য
১। 'শার্লক হেবো' (১৯৭১)
২। প্রদীপ দত্তের সঙ্গে 'অরিগ্যামি' (১৯৮২)
৩। 'ডিসনিল্যান্ড' (১৯৮৫)- তাঁর নিজের ক্যালিফোর্নিয়া ভ্রমণের কাহিনী। এই বইটিতে তার কিছু পেন্সিল আঁকা চিত্র আছে।
৪। 'নাক উঁচু' (১৯৮৫)
৫। 'হাতি আর হাতি' (১৯৮৯)

Å বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, বিজ্ঞান কথাসাহিত্য এবং কল্পবিজ্ঞান:
বিশ্বাসঘাতক (১৯৭৪); হে হংসবলাকা (১৯৭৪); অবাক পৃথিবী (১৯৭৬); নক্ষত্রলোকের দেবতাত্মা (১৯৭৬); আজি হতে শতবর্ষ পরে (১৯৮৫)

Å চিত্রাঙ্কণ, ভাস্কর্য ও স্থাপত্য:
অজন্তা অপরূপা (১৯৬৮); লা-জবাব দিল্লি অপরূপা আগ্রা (১৯৮২); Immortal Ajanta (১৯৮৪); ভারতীয় ভাস্কর্যে মিথুন (১৯৮০); প্রবঞ্চক (১৯৮৭)

Å ভ্রমন কাহিনী:
দণ্ডকশবরী (১৯৬২); পথের মহাপ্রস্থান (১৯৬৫); জাপান থেকে ফিরে (১৯৭১)

Å স্মৃতি-রোমন্থন:
ষাট একষট্টি (১৯৮৪); আবার সে এসেছে ফিরিয়া (১৯৮৯)

Å মনস্তাত্ত্বিক:
মনামী (১৯৬০); অন্তর্লীনা (১৯৬৬); তাজের স্বপ্ন (১৯৬৯)

Å গোয়েন্দাকাহিনী (কাঁটা সিরিজ সহ ):
নাগচম্পা (১৯৬৮); সোনার কাঁটা (১৯৭৪); মাছের কাঁটা (১৯৭৫); পথের কাঁটা (১৯৭৬); ঘড়ির কাঁটা (১৯৭৭); কুলের কাঁটা (১৯৭৮); উঁলের কাঁটা (১৯৮০); অ-আ-ক-খুনের কাঁটা (১৯৮৭); সারমেয় গেণ্ডুকের কাঁটা (১৯৮৯); কৌতূহলী কনের কাঁটা (১৯৯৩); অভি পূর্বক নী ধাতু অ - য়ের কাঁটা; যাদু এতো বড় রঙ্গের কাঁটা; রিস্তেদারের কাঁটা (১৯৯২); ড্রেস রিহার্সালের কাঁটা; ন্যায়নিষ্ঠ ন্যাসনাশীর কাঁটা (১৯৯৪); সকল কাঁটা ধন্য করে 

Å গবেষণা সম্পর্কিত:
নেতাজি রহস্য সন্ধানে (১৯৭০); চিন - ভারত লং মার্চ (১৯৭৭); পয়োমুখম (১৯৮৭)

Å উদ্বাস্তু সমস্যা সংক্রান্ত:
বল্মীক (১৯৫৫); বকুলতলা পি. এল. ক্যাম্প (১৯৫৫); অরণ্যদণ্ডক (১৯৬১)

Å ঐতিহাসিক:
মহাকালের মন্দির (১৯৬৪); হংসেশ্বরী (১৯৭৭); আনন্দস্বরূপিণী (১৯৭৮); লাডলী বেগম (১৯৮৬); রূপমঞ্জরী

Å জীবনীমূলক:
আমি নেতাজিকে দেখেছি (১৯৭০); আমি রাসবিহারীকে দেখেছি (১৯৭৩); লিন্ডবার্গ (১৯৭৮)

Å দেবদাসী সম্পর্কিত:
সুতনুকা একটি দেবদাসীর নাম (১৯৮৩); সুতনুকা কোন দেবদাসীর নাম নয় (১৯৮৪)

Å নাটক:
মুস্কিল আসান (১৯৫৪); এক দুই তিন।

Å রচনা সংগ্রহ:
স্বর্গীয় নরকের দ্বার এবং ... (১৯৯২); লিওনার্দোর নোটবই এবং ... (১৯৯২)

Å নামানুষ (জন্তু) সাথে সম্পর্কিত:
গজমুক্তা (১৯৭৩); তিমি তিমিঙ্গিল (১৯৭৯); রাস্কেল (১৯৮৪); না-মানুষের কাহিনী (১৯৮৮); না-মানুষী বিশ্বকোষ এক (১৯৮৮); না-মানুষী বিশ্বকোষ দুই (১৯৯০)

Å সামাজিক উপন্যাস
ব্রাত্য (১৯৫৯); অলকানন্দা (১৯৬৩); নীলিমায় নীল (১৯৬৪); সত্যকাম (১৯৬৫); পাষণ্ড পণ্ডিত (১৯৭০); অশ্লীলতার দায়ে (১৯৭৫); লাল ত্রিকোণ (১৯৭৫); প্যারাবোলা স্যার (১৯৭৭); আবার যদি ইচ্ছা কর; মিলনান্তক (১৯৮৫); ছোঁবল (১৯৮৯); ছয়তানের ছাওয়াল (১৯৮৯); এমনটা তো হয়েই থাকে (১৯৯২);  আম্রপালি (১৯৯২); মান মানে কচু (১৯৯২)

এছাড়াও অনেকে আছেন, হয়ত আমরা ধীরে ধীরে জানতে পারব। তার মধ্যে কয়েকজন:

- মিঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য ছিলেন আই এ এস এবং ভারত সরকারের প্ল্যানিং কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা যা কেন্দ্র সরকারের সচিব পদের সমতুল্য
- ডঃ অমিতাভ ঘোষ (মেকানিক্যাল) হয়েছিলেন খড়গপুর IIT-র ডিরেক্টরএখন বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নাসি সিনিয়র সায়েন্টিস্ট এবং ভারতীয় জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমীর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও  আই আই টি কানপুরের সান্মানিক বিশিষ্ট অধ্যাপক।
- রায় বাহাদুর আনন্দ প্রসাদ সরকার (১৮৮৩-র স্নাতক) ছিলেন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির সেচ বিভাগের প্রথম ভারতীয় প্রধান প্রকৌশলী বা চিফ ইঞ্জিনিয়ার
- শ্রী অমর নাথ দাস (১৮৯৫-র স্নাতক) ছিলেন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নির্মান বিভাগের প্রথম ভারতীয় প্রধান প্রকৌশলী
- ডঃ বিমল বোস ছিলেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ টেন্নেসসীর পাওয়ার ইলেকট্রনিক্সের সন্মানীয় অধ্যাপক 
- ডঃ নিহার বিশ্বাস ছিলেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ উইন্ডসরের ডিন
- ডঃ তাপস সোম ছিলেন আমেরিকায় IBM কোম্পানির মুখ্য যন্ত্রবিদ 
- ডঃ এস গোলদার ছিলেন দিল্লি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিরেক্টর
- প্রোফেসর এ মিত্র ছিলেন দিল্লি স্কুল অফ প্ল্যানিং এন্ড আর্কিটেকচারের ডিরেক্টর
- শ্রী অনিল চন্দ্র ব্যানার্জী ছিলেন কলকাতার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট প্রাঃ লিঃ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর
- ডঃ অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, পেশাদার প্রকৌশলী (PE), ASCE- ফেলো, SUNY ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস প্রোফেসর