Tuesday, April 2, 2013

৩. পাতি পরীক্ষা

- . পাতি পরীক্ষা

দিকে দেখতে দেখতে Ragging পিরিয়ড শেষ হয়ে আসতো। শেষদিনে হতো "পাতি পরীক্ষা", যার সম্পূর্ণ বর্ণনা দেওয়া এখানে চলে না স্বাভাবিক কারণেপরীক্ষার সিট পড়তো লটারি করে। কারো সিট তিনতলার ২নং টয়লেটে, কারো একটা ভাঙ্গা লকারের উপর বা কারো সিড়ির উপর।  অনেক বহিরাগত পরীক্ষক আসতেন, তাদের নাম যেমন জমকালো, কাজকর্ম তেমনি বিটকেল। আমার রুমমেটের কাছে শুনেছিলাম হটাত ঘোষনা হলো জাপান থেকে আসছেন (আসলে পাশের কোনো হল থেকে) স্যার তাকিওনা মূতেআসী, তিনি দেখলেন এক মুরগি আলোর অভাবে নিজের সিট্ ছেড়ে একটু সরে এসেছে, সেই বেয়াদপির জন্যে খাতায় মাইনাস ১০ নম্বর  দিয়ে চলে গেলেন। একজন নাকি ভাঙ্গা লকারের উপর, বসার জন্যে একটা খবরের কাগজ পেতে নিয়েছিল। তাকে টোকার দায়ে মাইনাস ২০। বাকি বহিরাগত পরীক্ষকদের নাম লিখলে আমাকে অশ্লীলতার দায়ে জেলে যেতে হতে পারে।  অবশেষে প্রায় সবাই নেগেটিভ নম্বর পেত। পাস না করলে শাস্তি ছিল হোস্টেল ছেড়ে চলে যাবার বা থুতু ফেলে ডুবে মড়ার বা ১০ টা উঠবস।

আর প্রশ্নগুলোও যথারীতি সেন্সর-এর কোপে পড়বে। তবু  লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার কিছু শ্লীল  প্রশ্ন:

## সিপাহী বিদ্রোহের দুজন সিপাহীর নাম বল? পারলে বা না পারলে পরের প্রশ্ন, তাদের দুজন পাড়ার লোকের নাম বল? অনেকেই বলতে পারতো না। ২ বা ৪ অক্ষরের সম্ভাসনসহ দাদারাই বলে দিত ওরে তুই আর তোর বাবা। খোঁজ নিয়ে দেখিস ১৮৫৭ সালে তোদের পাড়া থেকে একজন নিশ্চই সিপাহী ছিল। আর না থাকলে তোদের পাড়ায় সব দেশদ্রোহী। সেই পাড়ার লোকের এই কলেজে পড়ার যোগ্যতা নেই। অকাট্য যুক্তি।

## অঙ্কের প্রশ্নে থাকত  ʃ x . dx, যদি upper limit = family আর lower limit = father হয়, তাহলে মায়ের শাড়ির রং কি হবে ? সোজা উত্তর, (family-father); মানে যে family তে father নেই, সেখানে মায়ের শাড়ির রং সাদা-ই হবে।

## লজিকের প্রশ্ন থাকত, যদি "গেলাস"-এর ইংরেজি "Glass" হয় তাহলে "Glass" এর বাংলা "কাঁচ" কেন?

## ঐতিহাসিক প্রশ্ন থাকত। সংজ্ঞা লিখতে হত। ভূগোল থেকে Aptitude কিছুই বাদ যেত না। তবে সবগুলো এখানে লেখা যাবে না।

তবে অনেকে তৈরি ছেলে, তারা সব ফাটাফাটি নম্বর পেত। বাকিদের জন্যে দুই বা তিন সপ্তাহের Probation Period (বা Ragging Period)  এই সময় একটা জিনিস শিখলাম, সেটা হলো দুনিয়ায় সব-ই "মায়া"। তাই মনকে তৈরি কর। কোনদিন দাদাদের মন হলো ক্লাস মায়া করে মনের সুখে Ragging করবে। তাই হোস্টেলে শুরু হলো জল বাওআলী। শোনা গেল হোস্টেল ১৫তে জল নেই, তাই ক্লাস বয়কট, মানে বনধ। পরে জানতে পেরেছিলাম এগুলো সব প্লান করে হত। কেউ গিয়ে ট্যাঙ্কের ভালভটা বন্ধ করে দিত, অথবা পাম্পের একটা তার খুলে দিত। জল না উঠলে কেউ চান না করলে, ক্লাস করবে কি করে। তাই বনধ। দুদিন পরে অন্য হোস্টেল। কোনদিন সাহেবপাড়ায়, পরদিন মুচিপাড়ায়। সেইদিনগুলো ছিল বেশি আতঙ্কের। কারণ সব সিনিয়াররা পাশের হল থেকে নিজেদের পুরোনো হোস্টেলে আসতো নতুন মুরগীদের সাথে আলাপ করবে বলে। আরও একটা জল বাওআলী সহ্য করতে হতো মুরগীদের। সেটা সাধারনতঃ ক্লাস করে মধান্যভোজনের বিরতিতে হোস্টেলে ফিরে আসার সময়। উপর থেকে ঝপাত করে গায়ে এসে পরত এক বালতি জল। জামা কাপড়, বই খাতা, ড্রয়িং বোর্ড সব ভিজে একাকার। Ragging শেষ হয়ে গেলেও সেটা সারাবছর চলত, নিজেদের মধ্যেই। অনেক সময় একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যেত, কেউ "খার" বা "সেন্টু" খেয়ে গেলে। প্রায় সব কলেজেই কিছু নিজস্ব শব্দ বা ভাষা ব্যবহার হয়। কতকগুলো যেমন সহজেই বোধগম্য, কয়েকটার জন্যে একটু পাদটিকার প্রয়োজন। "খার খাওয়া" মানে রেগে যাওয়া আর "সেন্টু খাওয়া" মানে সেন্টিমেন্টাল হয়ে যাওয়া বা মন থেকে খারাপ লাগা।

দুই বা তিন মাত্রিক গালি কাকে বলে সেটাও জানতে পারলাম। মানে শুধু তিন বা চার অক্ষর মানে একমাত্রিক; তার সাথে অধস্তন বা উর্ধস্তন একপুরুষ যোগ করলে দুইমাত্রিক। তিন বা চারমাত্রিকগুলো বেশ জমজমাট হত। মানে যাকে দেওয়া হবে তার যেন মানে বুঝতেই এত সময় লাগে যে উত্তর দেবার সুযোগ না পায়। সব কিছুর-ই একটা ভালো ব্যাখ্যা আছে। যদি কেউ পাশ করার পর কোনো Construction Site-এ চাকরি পায়, আর কোনো ঝামেলার সময় কোনো শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ারকে বাপ মা তুলে গালি দেয়, তাহলে হিতাহিত জ্ঞানশুন্য হয়ে হাত পা চালিয়ে আরো সর্বনেশে দিকে না গিয়ে বা হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে চাকরি ছেড়ে না দিয়ে সেই ইঞ্জিনিয়ারবাবুও যেন একটু কাঁচা খিস্তি দিতে পারে এবং সেটা যেন পদমর্যাদা গুনে বেশ মানানসই হয়

২. হসপিটাল ও ডাক্তারবাবু


- . হসপিটাল ও ডাক্তারবাবু


র একটা জিনিস আর জিনিয়াসের সাথে কলেজে এসে পরিচয় হয়েছিল, সেটা হলো একটা হসপিটাল আর তার এক ডাক্তারবাবু। অবস্থানটা বেশ বিটকেল ছিল। হসপিটাল-এর একদিকে Wolfenden Hall - মুরগীদের কাছে ভয়ঙ্কর ত্রাস; অন্য দিকে Pandiya Hall - একমাত্র ছাত্রীনিবাস আর সামনে সেই বিখ্যাত Boxing Ring - যেখানে অনেক সম্পর্কের শুরু বা শেষ। এর অদুরেই Graveyard, প্রাচীন অনেক সাহেব আর মেমের সমাধিস্থল। যখন আমরা ভর্তি হবার জন্যে এসেছিলাম, কলেজে টাকা পয়সা জমা দেবার পর, সবার মেডিকেল টেস্ট হত। তখন সবাইকে একবার যেতে হত। তারপর রাগিং পিরিয়ড-এও টুকটাক দরকারে বা প্রয়োজনে সিনিয়রদের হাত ধরে অনেকে গেছে শুনেছি। আর একটা দরকারে অনেকে যেত, সেটা হলো কোনো Semester বা Mid Semester পরীক্ষার সময় পক্স বা জন্ডিস নিয়ে অনেকে ভর্তি হত। তবে সেটা সবসময় আসল রোগ না হলেও হত। অনেকে কোনো পেপার ২-৩ বারের চেষ্টাতেও উতরাতে না পারলে, এই পথ অবলম্বন করত। হসপিটালে ভর্তি হবার জন্যে কাঠখড় পোড়াতে হত না।

কারণ ডাক্তারবাবুর প্রতিভা। হসপিটালে বেশ কিছু রঙিন বড়ি থাকত - সাদা, লাল, কমলা, সবুজ ইত্যাদি। বিভিন্ন রোগের জন্যে বিভিন্ন রঙের বড়ি। তবে অনেক সময় সভয়ে লক্ষ্য করেছি, দুটো ভিন্ন রোগের জন্যে দুই ভিন্ন রোগীর বড়ির রং একই। তাই হসপিটালে ভর্তি হলেও অনেকে বাইরের  ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নিত। তাতে  হসপিটালের কোনো অসুবিধে ছিল না। এমনও হয়েছে, একবার কারো মাথা ফেটে যাবার পর নিয়ে যেতে, হসপিটালের ডাক্তারবাবু বলেছেন, "ইস্, অনেকটা কেটে গেছে। তাড়াতাড়ি কোনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও।" 

তাই তেমন দায়ে পড়লে হসপিটালে গিয়ে কি হচ্ছে না বলে এটা বললেই হত, "ডাক্তারবাবু, মনে হচ্ছে জন্ডিস হয়েছে।" অবধারিত প্রশ্ন আসতো "তাহলে কোনো ভালো ডাক্তার দেখাও বা বাড়ি চলে যাও"। যখন শুনতেন পরীক্ষা আছে তখন একটা বেড লিখে দিয়ে বলতেন দিনে তিনবার লালবড়ি, দুবার সাদাবড়ি নিতে আর বাইরে থেকে একটু রক্ত ইত্যাদি পরীক্ষা করে আনতে। আরও যেটা বলতেন সেটা হলো আসার সময় পারলে একটা ডাক্তার দেখিয়ে একটু মতামতটা জেনে নিতে! দেখিয়ে এলে সেই ওষুধগুলোই নিজের প্রেসক্রিপশনে লিখে দিতেন। আমাদেরও আপত্তি ছিল না, কারণ সেরকম কিছু হলে কেউ এই হসপিটাল আর তার ডাক্তারের উপর ভরসা করতাম না। কারণ সেরকম কিছু হলে সেখানে নাকি লোকে ঢুকত Vertical অবস্থায়, কিন্তু বেরোতো Horizontal হয়ে। না মানে একদম শেষ হয়ে নয়, স্ট্রেচারে শুয়ে পিজি বা নীলরতনের অ্যাম্বুলেন্সে উঠার জন্যে।

১. পথ চলা শুরু


বঙ্গীয় কারিগরী মহাবিদ্যালয়
===============

- . পথ চলা শুরু 

বি ই কলেজ নিয়ে আগের লেখাটার পর আরো কিছু লেখার দাবি আসায় অনেকবার অনেককিছু লিখতে শুরু করেও শেষ করিনি। কারণ আর কিছু নয় অনেক বন্ধু যাদের কিছু ছড়ানোর ঘটনা লিখলাম সে হয়তো এখন একটা বিশাল হনু হয়ে গেছে। আবার অনেকে আছে যাদের সাথে যোগাযোগ নেই, কোথায় আছে, কেমন আছে, আছে কিনা জানিনা। সব থেকে সোজা হয়ত নাম বদল করে লেখা, কিন্তু তাহলে অনেক মজাই হারিয়ে যাবে। তাই এখানে কলেজের চার বছরের কিছু টুকরো ঘটনা, সব দিক বাঁচিয়ে।

১৯৯৩-এর এক জুলাই মাসে বর্ধমান থেকে এসে নামলাম হাওড়াতে। আমার দুই দাদা (এক পিসতুতো আর এক জেঠতুতো) মালপত্রসহ একটা ছাগলছানাকে ছাড়তে এসেছিল সিনিয়ারদের হাতে জবাই হবার জন্যে। মানে শুরুর ভালবাসা (যেটাকে অনেকে Ragging বলে) সহ্য করে তারপর ইঁট, কাঠ, মেশিন নিয়ে নাড়াচাড়া করে যন্ত্রবিদ (ইঞ্জিনিয়ার) হব বলে। হাওড়া থেকে ৫৫ নম্বর বাস ধরে ৫৫ মিনিটের রাস্তা পেরিয়ে এসে হাজির হলাম বি ই কলেজে। কি মিল পরে জেনেছিলাম ক্লাসগুলোও নাকি সেই ৫৫ মিনিটেরই। দাদারা এসে আমার জন্যে নির্দিষ্ট ঘরে (হোস্টেল ১৫-র ৩০৭ নং রুম) আমাকে ছেড়ে যাবার পরেই মনে হলো - "এবার কি হবে। সবই তো অচেনা।" একটু আলাপ জমালাম একে একে আসা রুমমেটদের সাথে। একজন মেদিনীপুর থেকে দেবরাজ ঘোষ, একজন কলকাতার ডোভার লেন থেকে সন্দীপ মন্ডল আর একজন কিছুদিন ছিল, পরে পাশের রুমে চলে যায় রুদ্র সিরকার।

আস্তে আস্তে জানলাম কলেজে এলেই নাকি ফার্স্ট ইয়ার হয় না। আগে মুরগী থাকে, সিনিয়াররা বেশ করে (ভালোবেসে) চিবিয়ে খায় যে যেমন পারে, তারপর Ragging পিরিয়ড শেষ হলে ফার্স্ট ইয়ারের মর্যাদা পাওয়া যায়। আস্তে আস্তে ভিড় বাড়ছে। আমার মতই নতুন নতুন মুরগি, তাদের অভিভাবক। কারু মা হয়ত যাবার সময় বলতে বলতে যাচ্ছেন "বাবু রাতে একটু হরলিকস খাস। আর সকালে যদি পারিস একটু দুধ।" আর তার পাস দিয়ে কোনো সিনিয়ার-এর পিছু পিছু এক নতুন মুরগি সিড়ি বেয়ে উঠে আসছে, পরণে গামছা আর মাথায় নিজের অন্তর্বাস উল্টো করে পড়া। কিছু নতুন চরিত্রের সাথে সেই সন্ধ্যেতে আলাপ হয়েছিল। একজন গাল টিপে জানতে চাইলো "বাড়ি কোথায়"। আমি একটু আপত্তি জানানোয় হুকুম হলো "আয় চারতলার ঘরে, আমার নাম অমুক। না এলে কিন্তূ তোর .......... (3 Idiots-এর চমতকার) করে দেব"। ভয় পেয়ে গেলাম, গলা থেকে আওয়াজ বেরুচ্ছে না। আস্তে আস্তে ঘাড় নেড়ে কেটে পড়লাম। পরে জেনেছিলাম এই সব নামগুলো ছিল ছদ্মনাম, কোনো ভিতু মুরগি যদি কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করে দেয় তাই এই ছলনা। 

এক সিনিয়ার এসে নতুন মুরগি পেলেই জানতে চাইত  বাড়ি কোথায়, বোন আছে কিনা। কেউ যদি বলে যে বোন আছে তাহলে তারপর শুরু হোলো আসল বিড়ম্বনা। বোনের খোঁজ নিতে অনেকেই হাজির হতো, আর তাকে শ্যালক বানানোর ইচ্ছে প্রকাশ করে যেত। এইভাবে সব হোস্টেলেই কমসে কম একজন করে সার্বজনীন "শালা" হয়ে যেত। কোনো সিনিয়ার তিনতলা বা চারতলার জানলার উপর উঠিয়ে বলতো এবার লাফিয়ে পড়। ঘরের মধ্যেই লাফিয়ে পড়া উচিত এটা অনেকের মাথায় আসতো না আর প্রায় পান্টে প্রসাব করার যোগাড় হতো। এছাড়া এসেই শিখতে হতো "মহায়ন" বা "প্রভাতকাল"-এর মত কিছু প্রার্থনাসঙ্গীত। দাবীমত সকাল সন্ধ্যায় সেগুলো সুর করে গাইতে হত দল বেঁধে। আমাদের অনেকের-ই প্রথম সিগারেটে টানটাও দাদাদের আবদারে। সে এক অদ্ভুত সমস্যা। সিগেরেট না খেলে "বাচ্চা ছেলে" আর খেলে "বেয়াদপ ছেলে, দাদাদের সন্মান দিতে শেখেনি"।

তারপর রাতের বেলায় শুরু হতো আসল ভালবাসা। প্রভাতকালে বা মহায়নের মত কিছু সঙ্গীত ছাড়াও আস্তে আস্তে আমরা শিখে যেতাম, কিছু প্রাকটিক্যাল ক্লাস হাওড়া - শিয়ালদহ - বজবজ অথবা তিনতলার কার্নিশ বেয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়া। কোনো রুমে এক সাথে অনেক গুলো মুরগিকে নিয়ে শুরু হত আলাপ পরিচয়। একজন ছিল বানান বিশারদ, যেতে যেতে হঠাত জানতে চাইত কুজ্ঝাটিকা বা স্বরস্বতী-র বানান। না পারলে কান ধরে ১০টা উঠবস। তাও মানা যেত একদিন হটাত এক বিশাল হাঁচি পড়ল তার "হ্যাওওওচ্চোওও"। সাথে সাথে সামনে যারা ছিলো তাদের হুকুম হলো বানান করার। কতগুলো ও ছিলো ওই হাঁচিতে না বলতে পারলে আবার সেই কান ধরে ১০টা উঠবস। আর এই ১০ টা উঠবসের গণনা ছিলো বেশ অদ্ভুত। ১, , , , , , , , , ৯.১, ৯.২, ৯.৩, ৯.৪, ৯.৫, ৯.৬, ৯.৭, ৯.৮, ৯.৯, ৯.৯১৯.৯২, ৯.৯৩, ৯.৯৪, ৯.৯৫, ৯.৯৬, ৯.৯৭, ৯.৯৮, ৯.৯৯, ৯.৯৯১ .............. এতএব ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থ্যা। 

এর মাঝে কিছু দরদী সিনিয়ার ছিল। এসে পরম মমতায় গায়ে হাত বুলিয়ে জানতে চাইতো "খুব রাগিং করেছে তাই না"। তারপর একটু সমবেদনা জানিয়ে বলতো, দেখ আমরা চাই না রাগিং হোক, আমরা এসবের পরিবর্তন চাই। আমরা অমুক বিদ্যার্থী পরিষদ বা তমুক স্টুডেন্ট ফোরাম। তাই তোরা এর সদস্য হয়ে যা, আজ রাতে আমার সাথে চল, অমুক হলের এক রুমে কিছু ব্যানার লিখতে হবে। কেউ কেউ হাতের লেখা ভালো এমন কোনো মুরগিকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে গিয়ে নোট কপি করার কাজ দিয়ে বন্ধুদের সাথে তাস খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত। কোনো দাদা আবার রোজ চান করতে যাবার সময় কারু মাথায় মাখার তেল বা সাবান নিয়ে চলে যেত, মনে থাকলে বা মুড ভালো থাকলে যাবার সময় ফেরত দিয়ে যেত। হোস্টেলের ডাল ছিলো আমাদের কাছে একটা ভয়ঙ্কর জিনিস। খাবার টেবিলে ৩-৪ গ্লাস ডাল খেতে হত একটু বেচাল করলেই। 

সেই সময় যন্ত্রনা দিলেও কিছু কিছু Ragging বেশ মজার ছিল। কোনো প্রশ্নের মানে বুঝতে না পারলে ছড়িয়ে ফেলার পর  কোনো মুরগির কাজ হতো খাটের নিচে থেকে গর্ভবতী কিউলেক্স মশা ধরে আনার। অনেকেই চাইতাম এই কাজটা পেতে তাহলে খাটের নিচে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়া যেত। ছড়িয়ে ফেললে কোনো সিনিয়ারের হুকুম হতো অনুতাপের আগুনে দগ্ধ্য হতে হতে নিজের ঘরে চলে যাবার। এমন অভিনয় করতে হত যেন সত্যি সত্যি আগুনে গা পুড়ে যাচ্ছে। অভিনয় ঠিক থাক না হলে ৫ পয়সা বা ১০ পয়সাকে ফু দিয়ে ফুটবল খেলতে হত। আর যাই হোক রাত জেগে Ragging খাবার থেকে অনেক ভালো। কেউ কেউ চাইত নোট কপি করার কাজ, কেউ কেউ আবার পিছনের কার্নিশ বেয়ে, পাইপ বেয়ে এক ফাকে কেটে পরার তালে থাকত। শেষ দলে আমিও ছিলাম। বি গার্ডেন থেকে শেষ C6 ধরে গিয়ে উঠতাম কুমারটুলিতে এক দাদার বাড়ি, আবার পরদিন সকালে প্রথম C6 ধরে আবার কলেজ। ভালই চলছিল, শেষদিকে ধরা পরে গেলাম এক সিনিয়ারের কাছে যে ওই একই বাসে কলেজ আসছিল। তাই আমার Ragging পিরিয়ডটা এই অজুহাতে একটু দীর্ঘ হয়েছিল। 

Friday, March 8, 2013

Tata Airlines - 1932 Brochure and Routes

Original Route Map and Brochure of Tata Airlines – First Commercial Aviation in undivided India (later Indian Airlines and now Air India) during 1932.....